মুম্বই: রবিবার সন্ধ্যায় এক চরম হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন বলিউড তারকা টাইগার শ্রফ। জুহুর পুষ্পা পার্ক এলাকায় ফুটবল খেলা সেরে নিজের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁকে লক্ষ্য করে চলল এলোপাথাড়ি পাঁচ রাউন্ড গুলি। কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, একেবারে বাস্তবের এই ভয়াবহ হামলায় একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন অভিনেতা। ছেলের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার খবরে স্বাভাবিকভাবেই গোটা শ্রফ পরিবারে নেমে এসেছিল চরম আতঙ্ক, তবে টাইগার সুরক্ষিত থাকায় অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মুখ খুলেছেন তাঁর বাবা জ্যাকি শ্রফ ও মা আয়েশা শ্রফ।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যার এই ঘটনায় চারদিকে তখন সাজোসাজো রব। অভিনেতাকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। ঠিক সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বাইকে চড়ে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ভিড়ের মাঝেই টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালাতে শুরু করে। যদিও সৌভাগ্যবশত কোনো গুলি সরাসরি টাইগারের গায়ে বিঁধেনি, তবে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চলায় বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরোয় তাঁর হাত ও বুক জখম হয়েছে। তবে এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন অভিনেতার গাড়িচালক ও এক নিরীহ অটোচালক। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে যথাক্রমে নানাবতী ও কুপার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর টাইগারের প্রথম যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে বসে থাকতে এবং ডান হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে মুখ লুকাতে দেখা গিয়েছে।
ছেলের এই বিপদের খবর চাউর হতেই ভক্তদের মাঝে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তীতে জ্যাকি শ্রফের অফিসিয়াল টিম থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয় যে টাইগার এখন ভালো আছেন। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমকে টাইগারের মা আয়েশা শ্রফ কেবল হাত জোড় করে ‘থাম্বস-আপ’ দেখিয়ে স্বস্তির সুরে বলেন, “ঈশ্বর কৃপাময়।” এদিকে এই ভয়াবহ ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রবিবার রাতে টাইগারের জুহুর বাড়িতে ছুটে যান মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নব্বইয়ের দশকের কোনো গ্যাংওয়ার বা দাদাগিরি মুম্বইয়ে আর বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, এই দুঃসময়ে অভিনেতার পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন চর্চিত প্রাক্তন প্রেমিকা দিশা পাটানি ও পরিচালক জয়া আখতারও।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিদেশে বসে অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধু নামে দুই গ্যাংস্টার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর নাম করে ছড়ানো হয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। জুহু থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনে খুনের চেষ্টার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আন্ধেরি থেকে হামলায় ব্যবহৃত বাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং টাইগারের গাড়িটি থানায় নিয়ে গিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও হামলাকারীদের ছবি হাতে পেয়ে অপরাধীদের পাকড়াও করতে ময়দানে নেমেছে ১৫টি আলাদা পুলিশ দল।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন