নয়াদিল্লি: সাত বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষা ও সীমান্ত উত্তেজনার বরফ গলিয়ে অবশেষে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি বসলেন বিশ্ব রাজনীতির দুই অন্যতম মেরু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘ বিবাদের মেঘ সরিয়ে বৈঠকের শুরুতেই চীনা প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান, ভারত ও চিন একে অপরের শক্তি ও ইতিবাচক দিকগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে একযোগে সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে।
বৈঠকে চিনা প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারতের ব্রিকস সভাপতি থাকাকালীন চীনের ক্রমাগত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবার আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এসেছে। ভারতে আপনাকে আবারও স্বাগতম।” মোদীর আমন্ত্রণের স্মৃতি চারণ করে শি জিনপিং জানান, গত ১৫ জুন নিজের জন্মদিনের দিনই তিনি এই ভারত সফরের নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলিতে মোদীর সঙ্গে তাঁর ২১ বার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যই আজ ভারত-চীন সম্পর্ককে এক স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে চালিত করেছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ফোকাস ছিল দুই দেশের কৌশলগত ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ। শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “চিন এবং ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দুটি রাষ্ট্র এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অত্যন্ত দায়িত্বশীল সদস্য। শতাব্দীর অন্যতম বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানবতার ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে আমাদের এগোতে হবে। আমাদের উচিত এক সমান ও সুশৃঙ্খল বহু-মেরু বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে কেউ নিজেদের স্বার্থকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করবে না।”
নয়াদিল্লির এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানই সীমান্ত সমস্যা, বিশেষ করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (LAC) পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে সম্যক পর্যালোচনা করেছেন। গলওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে যে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, জিনপিংয়ের এই দিল্লি সফর এবং মোদীর সাথে আন্তরিক আলোচনা সেই বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিল। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তি যেভাবে হাত মেলানোর বার্তা দিল, তা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
বিষয় : HiddenStoriesNews

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন