কলকাতা: ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর তপ্ত দুপুরে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। ব্রিগেডের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ — দেশের তাবড় ভিভিআইপিদের উপস্থিতিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল শহর। কিন্তু, ব্রিগেডে এমন ‘হাইভোল্টেজ’ কর্মসূচি সত্ত্বেও শনিবার কলকাতার রাস্তাঘাট রইল কার্যত স্বাভাবিক! যানজটের চেনা যন্ত্রণার বদলে পুলিশের দক্ষতায় স্বস্তিতেই যাতায়াত করলেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেডের দিকে মানুষের ঢল নেমেছিল। ফোর্ট উইলিয়াম, আউটরাম রোড থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বর — সর্বত্রই ছিল মানুষের মাথা! প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে রেড রোড, কেপি রোড, হসপিটাল রোড ও ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবে, আগে থেকেই বিকল্প রাস্তার ম্যাপ ঘোষণা করে দেওয়ায় বড় কোনও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি নিত্যযাত্রীদের। উত্তর থেকে দক্ষিণ বা দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী গাড়িগুলি কিছুটা ঘুরপথে চললেও কোথাও ট্রাফিক থমকে যায়নি।
অতীতে ব্রিগেডে বড় কোনও রাজনৈতিক সভা থাকলে শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার ছবিই দেখা গিয়েছে। কিন্তু, এবারের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শনিবারের ব্রিগেড কোনও চিরাচরিত রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না, বরং ছিল এক সরকারি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ফলে, বাইরে থেকে লরি বা বাসে করে লোক আনার হিড়িক ছিল না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছিল। যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সহজ করেছে। এমনকী, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে ভিড়ের চাপে গাড়ির গতি কিছুটা শ্লথ হলেও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এদিন রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালদের মতো প্রথম সারির বিজেপি নেতারা। কঠোর নিরাপত্তা এবং পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কড়াকড়ির মধ্যেও পুলিশের এই 'স্মুথ' ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট শহরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। শপথের জয়োল্লাস আর রবীন্দ্রজয়ন্তীর সুরের মাঝে ট্রাফিক যন্ত্রণা ছাড়াই এক ঐতিহাসিক শনিবার পার করল কলকাতা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন