কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মঙ্গলবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ দলের শীর্ষ নেতাদের পাশে নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই ভোট লুটের অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “আমরা হারিনি। অন্তত ১০০টি আসন আমাদের থেকে লুট করা হয়েছে!”
এদিন মমতার অভিযোগের মূল নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে ছিল না। আমাদের লড়াই ছিল ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে। ওরাই আসল ভিলেন।” ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “ভোট হয়ে যাওয়ার পরেও কীভাবে ইভিএমে ৮০-৮৫ শতাংশ চার্জ থাকে? এটা অসম্ভব।” দক্ষিণ কলকাতার জনৈক নির্বাচনী আধিকারিক রণধীরের একটি বিতর্কিত মেসেজের কথাও এদিন উল্লেখ করেন তিনি।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা দাবি করেন, উত্তর থেকে দক্ষিণ - সব জায়গায় বিজেপির ‘গুন্ডারা’ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তফশিলি জাতি ও উপজাতি কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে মমতা বলেন, “আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। পেটে-পিছনে লাথি মারা হয়েছে। ৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছিলাম। কিন্তু, এই নির্বাচন সব সন্ত্রাস ছাপিয়ে গিয়েছে।”
ক্ষমতা হারানো প্রসঙ্গে মমতার বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমার কাছে এখন আর কোনও চেয়ার নেই। আমি এখন মুক্ত পাখি। আমাকে তো কিছু করতে হবে।” এদিন ২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা সিপিএম-এর কোনও অফিস ভাঙেননি। কিন্তু, এখন পুলিশ সম্পূর্ণ ‘ইনঅ্যাক্টিভ’।
পরাজয়ের পর জাতীয় রাজনীতির হেভিওয়েটরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও জানান মমতা। অখিলেশ যাদব, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং উদ্ধব ঠাকরে এদিন তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অখিলেশ যাদব আগামিকালই কলকাতায় আসছেন বলে খবর। তৃণমূলনেত্রীর হুঙ্কার, “আমরা টাইগারের মতো লড়াই করেছি। ভবিষ্যতেও টাইগারের মতোই লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা আবার ফিরে আসবই!”
#MamataBanerjee #WestBengalElection2026 #TMC #ElectionCommission #BreakingNews #HiddenStoriesNews

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন