তেহরান: ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আবহে এবার বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী' নিয়ে বড়সড় চাল চালল ইরান। তেহরান প্রশাসনের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তারা কেবল চিনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে। আমেরিকা ও ইজরায়েল-সহ পশ্চিমী দেশগুলির উপর চাপ বাড়াতেই ইরানের এই কড়া পদক্ষেপের ভাবনা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে, তাঁদের বিশ্লেষণ হল - এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ করা হলে ভারতের পক্ষেও তার ফল খুব একটা শুভ হবে না।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হওয়া মানে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন লাগা! ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছে, তাদের উপর কোনও বহিঃশত্রুর আক্রমণ হলে তারা এই জলপথ অবরুদ্ধ করে দেবে।
ইরানের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে বেজিংয়ের সঙ্গে তাদের গভীর বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক। এত দিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরান থেকে তেল আমদানি করা অন্যতম বড় দেশ হল চিন। তাছাড়া, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিন ও ইরান একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এসেছে। তাই, আমেরিকা যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে, তখন চিনকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়ে ইরান এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রভাব খর্ব করতে চাইছে।
যদি ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল চিনা জাহাজের যাতায়াত সীমাবদ্ধ করে, তাহলে ভারতের জন্য তা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ভারতের তেল আমদানির সিংহভাগই এই পথ দিয়ে আসে। ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরান যদি চিনকে একচেটিয়া অধিকার দেয়, তবে নয়াদিল্লিকে বড়সড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। যে পরিস্থিতি একপ্রকার নজিরবিহীন!
ইরানের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনও ডিক্রি জারি না হলেও, এই ধরনের চিন্তাভাবনা ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ তৈরি করেছে। তেহরানের এই হুঙ্কার কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি, নাকি সত্যি কোনও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন