কলকাতা: দোল পূর্ণিমার রঙের উৎসবের মাঝেই মানবতার জয়গান গাইলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি বা গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য রক্ষার ডাক দিলেন তিনি। একইসঙ্গে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সমাজমাধ্যমে তাঁর বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৫০০ বছর ধরে শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনদর্শন বাংলার পথপ্রদর্শক হিসাবে কাজ করছে। তাঁর মতে, মহাপ্রভুর ধর্ম আসলে মানবতার ধর্ম, যেখানে জাতি-ধর্ম বা ধনী-দরিদ্রের কোনও ভেদাভেদ নেই। সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, এই অকৃত্রিম প্রেম ও ঐক্যের দর্শনই বাংলার নবজাগরণের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
চৈতন্যদেবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলির উন্নয়নে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথা এদিন পুনরায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মহাপ্রভুর জন্মস্থান নবদ্বীপকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'হেরিটেজ টাউন' হিসাবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ইসকন (ISKCON)-এর তীর্থক্ষেত্রকে (মায়াপুর) কেন্দ্র করে বিশ্বমানের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ৭০০ একর জমির বন্দোবস্ত করেছে।
উৎসবের আমেজেও রাজনীতির উত্তাপ ধরা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। ভোটারতালিকা সংশোধন এবং তাতে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে বিঁধেছেন তিনি। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, "বিজেপি যত চক্রান্তই করুক, একটা ভোটে হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব।"
তিনি আরও বলেন, চক্রান্ত করে কাউকে হারানো যায় না। বাংলার সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের আবেগই তাঁর প্রধান শক্তি। ভোটারতালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তিনি যে বিন্দুমাত্র ভীত নন, এদিন সেই আত্মবিশ্বাসই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
তিনি বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষতা ও সহিষ্ণুতার যে ঐতিহ্য চৈতন্যদেবের বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার উপর যেন কোনও আঁচ না পড়ে।" পরিশেষে, দোল ও গৌর পূর্ণিমার এই সন্ধিক্ষণে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট — উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধনেই বাংলা তার সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন