ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ শতাংশ আমদানিশুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি আপাতত থমকে গেল। প্রেসিডেন্টের কড়া নির্দেশের বদলে মঙ্গলবার থেকে ১০ শতাংশ হারেই শুল্ক আদায় শুরু করল মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত রক্ষা সংস্থা (CBP)। সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা এবং আইনি জটিলতার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনকে আপাতত কিছুটা পিছু হটতে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তকে 'বেআইনি' বলে ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আদতে ক্ষমতার অপব্যবহার। এরপরই হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, আগের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর হবে না।
আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প তড়িঘড়ি ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে নতুন একটি নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। সেখানে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, যা মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ওয়াশিংটন সময়) থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার এই হার ১৫ শতাংশ করার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আপাতত ১০ শতাংশ ট্যারিফেই স্থির রয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের আধিকারিকরা এই শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার লক্ষ্যে নতুন সরকারি নির্দেশিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, এক্ষেত্রেও ট্রাম্পের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন আইন। ১৯৭৪ সালের আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখা যায় না। তাই, এই শুল্ককে ‘সাময়িক’ হিসাবে দেখা হচ্ছে। কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।
ট্রাম্প জমানায় আমেরিকার শুল্ক নীতির ঘনঘন এই পরিবর্তনের ফলে ভারতসহ বিভিন্ন রফতানিকারী দেশগুলি গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। যদিও, ১৫ শতাংশের বদলে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ায় সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে, হোয়াইট হাউস যদি শেষ পর্যন্ত শুল্ক বাড়াতে সফল হয়, তাহলে বিশ্ব বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন