কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল হিসেবে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলার মানুষের উদ্দেশে একটি আবেগঘন অথচ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন তিনি। বিজেপির ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’-এর মাধ্যমে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে ঘরে। ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ সম্বোধনে শুরু হওয়া এই চিঠিতে একদিকে যেমন রয়েছে ‘জয় মা কালী’র জয়ধ্বনি, অন্যদিকে রয়েছে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, একসময় দেশের অর্থনীতি ও শিল্পের দিশারি পশ্চিমবঙ্গ আজ ‘অপশাসন’ এবং ‘তোষণমূলক’ রাজনীতির শিকার। তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাবে বাংলার যুবসমাজ আজ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। মোদী লিখেছেন, “সোনার বাংলায় আজ ভুয়ো ভোটারের দাপট। নৈরাজ্যের অন্ধকারে ডুবতে থাকা পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে আজ সমগ্র ভারত চিন্তিত।”
রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করলেও আরজি কর কাণ্ডের আবহে মোদী লিখেছেন, “নিরাপত্তার অভাবে আমার পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা আজ শঙ্কিত এবং ত্রস্ত।” বাংলার মনীষীদের নাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেই পুণ্যভূমি কীভাবে আজ নারী নির্যাতন ও অবৈধ অনুপ্রবেশে কলঙ্কিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে মতুয়া ও শরণার্থী ভোটব্যাঙ্ককে বিশেষ বার্তা দিয়ে চিঠিতে সিএএ-র (CAA) কথা উল্লেখ করেছেন মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় শরণার্থীরা সিএএ-র মাধ্যমে এ দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে চেয়েছেন।
কবিগুরুর কবিতা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—এমন এক বাংলা গড়ার জন্য তিনি রাজ্যবাসীর কাছে সেবার সুযোগ চেয়েছেন। দুর্নীতি ও অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্য রাজনীতিতে মোদীর এই খোলা চিঠি ভোটযুদ্ধের পারদ একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন