গুরুগ্রাম: প্রেমের দিনে স্ত্রীকে ‘সারপ্রাইজ’ দিতে লং ড্রাইভে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু সেই রোমান্টিক সফরের অন্তিম লক্ষ্য যে ছিল নৃশংস হত্যা, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণী। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার ঝঝ্জর এলাকায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্বামীর হাতে প্রাণ হারালেন একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী মেহক। শুধু খুনই নয়, ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ বলে চালানোরও আপ্রাণ চেষ্টা করেন অভিযুক্ত যুবক অংশুল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে শেষমেশ নিজের অপরাধ কবুল করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে মেহক ও অংশুলের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন পেশায় সিএ অংশুল। অভিযোগ, সেই সন্দেহের বশবর্তী হয়েই স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি। ভ্যালেন্টাইনস ডের দিন বাপের বাড়ি থেকে মেহককে গাড়িতে তুলে নিয়ে গুরুগ্রাম যান অংশুল। সেখানে দু’জনে মিলে দিনটি উদ্যাপনও করেন। কিন্তু ফেরার পথেই ঝঝ্জরের কাছে নির্জন এলাকায় মেহকের গলার নলি কেটে দেন তিনি। এই কাজে তিনি একটি কাঁচি ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজেই ১১২ নম্বর ডায়াল করে ডাকাতির গল্প ফাঁদেন অংশুল। তিনি দাবি করেন, একদল ডাকাত তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করেছে এবং বাধা দিতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে খুন করে গাড়ি নিয়ে চম্পট দিয়েছে। কিন্তু তদন্তে নামতেই পুলিশের নজরে আসে অংশুলের বয়ানের একাধিক অসঙ্গতি। জেরার মুখে অংশুলকে চেপে ধরতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ধৃত যুবক স্বীকার করেন, সন্দেহের কারণেই স্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
ইতিমধ্যেই অংশুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চার মাসের মাথায় একটি তরতাজা প্রাণের এই অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই পরিবার। পেশাদার একজন মানুষের এমন অপরাধী মানসিকতা দেখে তাজ্জব দুঁদে তদন্তকারীরাও।
বিষয় : Murder Death NEW DELHI VALENTINES DAY DELHIPOLICE

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন