ঢাকা: বাংলাদেশে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে, দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, আর প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু মসনদে বসার আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি। বিদায়ী ইউনূস প্রশাসন ও আগের ঋণের প্রভাবে বাংলাদেশের কাঁধে এখন প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের পাহাড়।
বাংলাদেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণ দেশের প্রায় তিন বছরের মোট বাজেটের সমান। বিদায়ের আগে ঢাকা ওয়াসা-সহ একাধিক প্রকল্পের জন্য আরও নতুন ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে বর্তমান প্রশাসন। ওয়ারেন বাফেটের সূত্র মেনে চলেনি বাংলাদেশ। আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে 'বস্ত্র শিল্পের' ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১৮ মাসে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ হারিয়েছে তার বাজার দখল—যেখানে ভাগ বসিয়েছে ভারত, ভিয়েতনাম ও মায়ানমার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি বস্ত্রশিল্পে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা দিলেও জুড়ে দিয়েছেন কঠিন শর্ত। আমেরিকার কাঁচামাল ও সুতো ব্যবহার করলেই কেবল এই সুবিধা মিলবে, যা কার্যত মার্কিন পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে।
প্রবাসী আয় (Remittance) কমেছে ৭ শতাংশ। রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। আইএমএফ (IMF)-এর ঋণের শর্ত মেটাতে গিয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে কাটছাঁট এবং নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের ঋণের কিস্তি মেটানো থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল করা—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জন্য এই পথ হবে কণ্টকাকীর্ণ। ডুবন্ত এই জাহাজকে তীরের দিশা দেখানোই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন