নয়াদিল্লি: বাজারে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোটের আকাল মেটাতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটিএম থেকে ৫০০ টাকার নোট বেরোলেও বাজারে ছোট নোটের অভাবে নিত্যদিন বাস, অটো কিংবা মুদির দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবার নিয়ে আসছে বিশেষ ‘হাইব্রিড এটিএম’। যার মাধ্যমে বড় নোট ভাঙিয়ে অনায়াসেই খুচরো সংগ্রহ করা যাবে।
কী এই হাইব্রিড এটিএম?
সাধারণ এটিএমে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তোলা গেলেও হাইব্রিড এটিএমের কাজ হবে ভিন্ন। এখানে ৫০০ বা ১০০ টাকার নোট জমা দিয়ে গ্রাহকরা নিজেদের প্রয়োজন মতো ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোট কিংবা কয়েন সংগ্রহ করতে পারবেন। সূত্রের খবর, মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কাজ (পাইলট প্রজেক্ট) চলছে। সফল হলে দ্রুত সারা দেশে এই এটিএম চালু করা হবে। বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, যেমন - বাসস্ট্যান্ড, বাজার, হাসপাতাল এবং সরকারি অফিস চত্বরে এই মেশিনগুলি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ?
নোট বাতিলের এক দশক পর বাজারে ছোট নোটের আকাল এবং জরাজীর্ণ নোটের আধিক্য সরকারকে এই ভাবনা ভাবতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে এখনও ডিজিটাল লেনদেনের (ইউপিআই) প্রসার পুরোপুরি ঘটেনি, সেখানে নগদ খুচরোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এছাড়াও, কেন্দ্র রিজার্ভ ব্যাংককে ছোট অঙ্কের নোট ছাপানোর পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গিয়েছে। ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের মুখ্য অর্থনীতিবিদ দেবেন্দ্র পন্থের মতে, "প্রত্যন্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের জীবনধারণ সহজ করতে নগদ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।"
অন্যদিকে, ব্যাঙ্ককিং বিশেষজ্ঞ বিবেক আইয়ার মনে করেন, এই পরিষেবা কেবল সেই সমস্ত এলাকাতেই চালু করা উচিত যেখানে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এখনও দুর্বল। নতুবা ব্যাঙ্কগুলির উপর অহেতুক আর্থিক চাপ বাড়বে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শুধু মেশিন বসালেই হবে না। এক্ষেত্রে নোটের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং তার সঠিক বণ্টন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করাও জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন