মুর্শিদাবাদ: সোমবার বিকেলে হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখীর জেরে তছনছ হয়ে গেল মুর্শিদাবাদের একাধিক এলাকা। আর এই ঝড়ের মাঝেই ঘটে গেল এক চরম বিপর্যয়। জেলার পৃথক দুটি জায়গায় বাজ পড়ে একই দিনে মৃত্যু হলো তিন জনের, যার মধ্যে রয়েছেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার ও দুই নদীভাঙন রোধের শ্রমিক। এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে গুরুতর জখম হয়ে আরও তিন জন এই মুহূর্তে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার সিভিক ভলান্টিয়ার সুব্রত ঘোষ (৩৬) সোমবার বিকেলে নিজের ডিউটি শেষ করে সাবলপুর গ্রামে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক সেই সময়ই আকাশ চিরে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে বজ্রপাত। বাজ পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপরই লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সুব্রতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বড়ঞা থানার পুলিশ।
১৫ মিনিটের অডিও ক্লিপের সূত্র ধরে অভিষেককে প্রশ্নবাণ, চাওয়া হল সংস্থার আর্থিক নথি
অন্যদিকে, একই দিনে মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ থানা এলাকাতেও প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ কেড়ে নিয়েছে দুটি তাজা প্রাণ। লালগোলা এলাকায় গঙ্গার নদীভাঙন রোধের কাজ করছিলেন একদল শ্রমিক। বিকেল ৪টে নাগাদ যখন কাজ পুরোদমে চলছিল, ঠিক তখনই আচমকা বজ্রপাতে কেঁপে ওঠে চারদিক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমির শেখ ও খুরশেদ শেখ নামে দুই শ্রমিকের। এই একই ঘটনায় বাজ লেগে গুরুতর জখম হন আরও তিন জন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। মৃত ও আহত সমস্ত শ্রমিকের বাড়িই শমসেরগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে তৎপরতা শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন