সাগর: উইকএন্ডের খোশমেজাজে মেতে উঠেছিলেন সকলে। রাত যত বাড়ছিল, মদের ফোয়ারার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল পার্টির উল্লাসও। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত যে চোখের নিমেষে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ। শনিবার রাতে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। মদ্যপানের পরই আচমকা একের পর এক ব্যক্তি তীব্র অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা মোট ৯ জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। একসঙ্গে ৯ জনের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এই রহস্যমৃত্যুর পেছনে বিষাক্ত মদের প্রভাব থাকার জোরালো সন্দেহ করা হলেও, পুলিশ এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বর খতিয়ে দেখে মৃতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কোথা থেকে এই মদ কেনা হয়েছিল, মদের সঙ্গে মারাত্মক কোনও রাসায়নিক মেশানো ছিল কি না, তা জানতে নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভেজাল মদের রমরমিয়ে কারবার চলছিল, আর সেই পুরোনো অভিযোগের মাঝেই ৯টি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া বেআইনি চক্রের দিকেই আঙুল তুলছে।
ভেজাল মদের এমন নৃশংস রূপ দেশে নতুন নয়। বিগত আগস্ট মাসেই গুজরাটের ভাবনগর জেলায় এই ধরনের বিষাক্ত মদ পান করে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১৩ জন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল আরও ১২ জনেরও বেশি মানুষকে। পরবর্তীকালে ল্যাব রিপোর্টে প্রকাশ পায়, সেই মদে মারাত্মক ক্ষতিকারক মিথানলের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮.৫৯ শতাংশ। ভাবনগরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রদেশের সাগরের এই মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল ফের একবার প্রশাসনের নজরদারি এবং সক্রিয় অবৈধ মদ মাফিয়াদের রমরমা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন