রামপুরহাট: রামপুরহাটে প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও রহস্যজনক প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঝড় উঠেছে। পাঁচবারের বিধায়কের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর এবার সরাসরি রাজনৈতিক বৈরিতা এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, সুদীর্ঘ কর্মজীবনে মানুষের জন্য এত কাজ করা সত্ত্বেও শেষ দিনগুলিতে আশিসবাবুকে মিথ্যা অপবাদ, কুৎসা এবং তীব্র মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যার চরম মূল্য তাঁকে জীবন দিয়ে দিতে হলো।
প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা এবং সমাজসেবামূলক কাজে অতিবাহিত করেছিলেন। রামপুরহাট তথা গোটা বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় আত্মিক যোগাযোগ ছিল। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার বিষয় হলো, জনসেবার এমন নজির থাকা সত্ত্বেও শেষ দিনগুলিতে তাঁকে অবিরাম মানসিক ও আবেগজনিত চাপের মুখে ফেলা হয়েছিল।
বারবার মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি নিহতের পরিবার, অনুগামী ও প্রাক্তন ছাত্রদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও আশিসবাবুর বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন।
অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তাঁর রাজনৈতিক সতীর্থদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারলেও আশিসবাবুর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না। তবে দলগত দূরত্ব তৈরির পর প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে কেউ ব্ল্যাকমেল বা ভয় দেখাচ্ছিল কি না, তা খুঁজে বের করতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার সকাল থেকেই রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের ভিড় উপচে পড়ে। তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই প্রবীণ নেতার প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়কে। এক সৎ ও সজ্জন রাজনীতিকের এমন রহস্যজনক পরিণতিতে গোটা এলাকা জুড়ে এখন শুধুই শোক আর তীব্র প্রশ্নের আবহ।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন