ধর্মতলার বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। "এমন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে’’, এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্মতলার ঘটনায় জড়িত মোট ৭০ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এঁদের অনেকেই ছাত্র নন এবং নিট-প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্মতলার মিছিল এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনও ঘটনায় সেই আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
শুক্রবার মিছিলে আহত কয়েকজন সাংবাদিককে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাতেই তাঁদের দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বিধানসভায় ফের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে তিনি আহত সাংবাদিকদের নামও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, শিলাদিত্য কর, দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মানস পাত্র, সুমন মহাপাত্র, ঋক পুরকায়স্থ এবং কৃষ্ণেন্দু মজুমদার-সহ একাধিক সাংবাদিকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ডিম ছোড়া যদি বাংলার সংস্কৃতি না হয়, তাহলে সাংবাদিকদের উপর জুতো-বোতল ছোড়াও বাংলার সংস্কৃতি নয়।"
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশকে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যতক্ষণ না পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে ততক্ষণ যেন বলপ্রয়োগ না করা হয়। তাঁর দাবি, মিছিলের শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছনোর পর হঠাৎই পরিস্থিতি বদলে যায়। সেই সময় থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, বোতল ছোড়া শুরু হয় এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ায়। আন্দোলনের ভিড়ে কিছু "বহিরাগত" ঢুকে পড়েছিল, যাঁদের সঙ্গে মূল আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক ছিল না। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে উস্কে দিয়ে লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ করানোর চেষ্টা হয়েছিল, যাতে পরে তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করা যায়। তবে পুলিশ সংযম দেখিয়েছে বলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন