রোজারিও : ফুটবলের সবুজ গালিচায় যার একেকটি ড্রিবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, যিনি নীল-সাদা জার্সিতে দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বজয়ের শ্রেষ্ঠত্ব, সেই লিয়োনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন।
তবে এই বিদায়ের সুর কেবল কোনও ট্রফির লড়াই শেষ করার গল্প নয়; এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুক আবেগ, শূন্যতা আর এক পরিবারের কান্নার ইতিহাস। বাবা জর্জে মেসির মৃত্যুর ঠিক কয়েক দিনের মাথায় সোমবার আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণা করেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই যেন দিশাহারা মেসির মা সেলিয়া কুকিটিনি। চোখের জল থামছেই না তাঁর। জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছিলেন আগেই, তার ওপর এবার ছেলের এই সিদ্ধান্ত, যেন জোড়া ধাক্কায় বুক ভেঙে গেছে সেলিয়ার।
তিনি ভারী গলায় আবেগঘন বার্তা দিয়ে জানান, "আমি এখনও কেঁদে চলেছি। লিয়ো যে অবসর নেবে, তা আমি আগেই জানতাম। তবু পুরো পরিবারের মন খুব খারাপ। তবে আসল বিষয় হলো, লিয়ো এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজে খুশি।"
মেসির ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও শক্তি ছিলেন তাঁর বাবা জর্জে। তিনি শুধু এলএম টেনের এজেন্ট ছিলেন না, ছিলেন জীবনের সেরা পথপ্রদর্শক। স্ত্রীর কাছে জর্জে প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতেন, "লিয়ো যখন আর ফুটবল খেলবে না, তখন আমি সময় কাটাব কীভাবে?"
স্বামীর চলে যাওয়া আর ছেলের অবসর যেন একই সুতোয় গাঁথা হয়ে গেল। সেলিয়া সেই আক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "ওঁর বাবা যে কথাটা মাঝে মাঝে বলত, শেষ পর্যন্ত দুটো ঘটনা একই সঙ্গে ঘটে গেল।"
আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ দীর্ঘ বছরের পথচলা শেষ করলেন মেসি। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আত্মপ্রকাশের পর ছ’টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ২০৭টি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছেন ১২৫ বার, যা তাঁকে দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি দলকে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। এছাড়া ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে ফাইনালিসিমা, কোপা আমেরিকা এবং অলিম্পিক্স সোনা।
আন্তর্জাতিক নীল-সাদা জার্সিটা তুলে রাখলেও পেশাদার ফুটবল কিন্তু এখনই ছাড়ছেন না এলএম টেনে। ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে আপাতত তাঁকে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পাবেন মাঠের লড়াইয়ে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন