Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

লরি আটকে তোলার কড়া পরিণতি! ঘুষ চাওয়ার অপরাধে সাসপেন্ড দুই এমভিআই আধিকারিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬
লরি আটকে তোলার কড়া পরিণতি! ঘুষ চাওয়ার অপরাধে সাসপেন্ড দুই এমভিআই আধিকারিক
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: প্রশাসনে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আর সেই নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতেই এবার এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। লরি আটকে অহেতুক হেনস্থা করা এবং ঘুষ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পরিবহন দপ্তরের দুই মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টরকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


ঘটনাটির সূত্রপাত পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে। দীপক সিংয়ের মালিকানাধীন এবং শিবা যাদব চালিত একটি গুডস ক্যারিয়ার ট্রাক সার্ভিসিং করিয়ে গ্যারেজে ফেরার পথে ওই চেকপোস্টে আচমকা গাড়িটিকে অন্যায়ভাবে আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, সেখানে দায়িত্বরত আধিকারিকরা লরি চালককে নানাভাবে হেনস্থা করেন এবং সরাসরি ঘুষের দাবি জানান। চালক সেই ঘুষ দিতে স্পষ্ট অস্বীকার করলে গাড়িটি বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই তুলে নেওয়া হয়েছে এমন একটি পুরানো করের অজুহাত দেখিয়ে জোর করে ২২,০০০ টাকা আদায়ের ফন্দি আঁটা হয়। ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও প্রকাশ্যে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নড়েচড়ে বসে পরিবহন দপ্তর।


ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির এই অভিযোগের তীব্রতা দেখে মুহূর্তের মধ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পরিবহন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ড. রবি ইন্দর সিংয়ের স্বাক্ষরিত সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকায় রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টর—নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৭১’-এর ৭(১)(এ) ধারা অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুধু বিভাগীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপই শেষ নয়, এই পুরো ঘটনাটির অপরাধমূলক দিক খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমগ্র মামলাটি অ্যান্টি-কারাপশন ব্যুরো বা এসিবির (ACB) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা লরিটি দ্রুত সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য কোনো নরম মনোভাব বা জায়গা থাকবে না।

বিষয় : BENGALPOLICE anticorruption corruptionfree mvisuspended

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


লরি আটকে তোলার কড়া পরিণতি! ঘুষ চাওয়ার অপরাধে সাসপেন্ড দুই এমভিআই আধিকারিক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: প্রশাসনে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আর সেই নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতেই এবার এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন। লরি আটকে অহেতুক হেনস্থা করা এবং ঘুষ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পরিবহন দপ্তরের দুই মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টরকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।ঘটনাটির সূত্রপাত পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে। দীপক সিংয়ের মালিকানাধীন এবং শিবা যাদব চালিত একটি গুডস ক্যারিয়ার ট্রাক সার্ভিসিং করিয়ে গ্যারেজে ফেরার পথে ওই চেকপোস্টে আচমকা গাড়িটিকে অন্যায়ভাবে আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, সেখানে দায়িত্বরত আধিকারিকরা লরি চালককে নানাভাবে হেনস্থা করেন এবং সরাসরি ঘুষের দাবি জানান। চালক সেই ঘুষ দিতে স্পষ্ট অস্বীকার করলে গাড়িটি বেআইনিভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই তুলে নেওয়া হয়েছে এমন একটি পুরানো করের অজুহাত দেখিয়ে জোর করে ২২,০০০ টাকা আদায়ের ফন্দি আঁটা হয়। ক্ষমতার এই অপব্যবহার ও প্রকাশ্যে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নড়েচড়ে বসে পরিবহন দপ্তর।ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির এই অভিযোগের তীব্রতা দেখে মুহূর্তের মধ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। পরিবহন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ড. রবি ইন্দর সিংয়ের স্বাক্ষরিত সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকায় রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিক্যাল ইনস্পেক্টর—নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৭১’-এর ৭(১)(এ) ধারা অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুধু বিভাগীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপই শেষ নয়, এই পুরো ঘটনাটির অপরাধমূলক দিক খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমগ্র মামলাটি অ্যান্টি-কারাপশন ব্যুরো বা এসিবির (ACB) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা লরিটি দ্রুত সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য কোনো নরম মনোভাব বা জায়গা থাকবে না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত