কাঠমাণ্ডু: ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ধাক্কায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপাল। ক্রমেই বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। এখনও নিখোঁজ বহু বিদেশি নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদল করল কাঠমান্ডু। উদ্ধারকাজে এবার ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলকে ঢোকার অনুমতি দিল নেপাল সরকার।
কয়েক দিন আগেও নেপালের তরফে জানানো হয়েছিল, বিদেশি সাহায্য ছাড়াই উদ্ধারকাজ সামলাতে সক্ষম তারা। কিন্তু বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এবং নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেই অবস্থান থেকে সরে এল সরকার। বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৬০০ পার করে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় ১,৯২৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাও যথেষ্ট। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকই সবচেয়ে বেশি। অন্তত ২৮৮ জন ভারতীয় পর্যটক ও শ্রমিকের কোনও সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি ১০০ জন চিনা, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ জন নাগরিকেরও খোঁজ মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে চার দেশের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। মূলত বিশেষ প্রযুক্তিগত কাজেই তাঁদের ব্যবহার করা হবে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভিতরে উদ্ধার অভিযান চালানো, মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেনসিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন তাঁরা। বিপর্যয়ের পর থেকেই নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই চারটি বিমান ভর্তি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে নেপালে। সেখানে রয়েছে পানীয় জল, খাবার, পোর্টেবল জেনারেটর এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। পাশাপাশি চিকিৎসক এবং টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞ-সহ ১১ সদস্যের একটি দলও পাঠিয়েছে ভারত। দক্ষিণ কোরিয়াও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিষয় : rescue operation nepal flood nepl disaster

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন