বাঁকুড়া: বেহাল সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পরিকাঠামোর ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার অপরাধে এক যুবকের বাড়িতে ঢুকে নৃশংস হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল বাঁকুড়ায়। দুষ্কৃতীদের বেধড়ক মারে গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষপর্যন্ত মৃত্যু হলো ওই যুবকের বৃদ্ধ বাবার।
বাঁকুড়ার ইন্দাস থানা এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাফিজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে নিজের এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুরবস্থার চিত্র ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। অভিযোগ, সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় প্রভাবশালী ও একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালায় এবং বাধা দিতে গেলে হাফিজ ও তাঁর বাবাকে নির্মমভাবে মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি করা হলে সেখানেই প্রাণ হারান বৃদ্ধ।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হতেই সিজেপি নেতৃত্ব এই হামলার জন্য সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। তবে নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনীতির যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়ের হওয়া এফআইআরে নাম থাকা পাঁচজনের মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত পাকড়াও করা হবে। ঘটনার পেছনে জড়িতরা প্রত্যেকেই সমাজবিরোধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে। সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন চাওয়ার অপরাধে এভাবে মানুষকে খুন করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সিজেপি সবসময় নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং হিংসা ছড়িয়ে এই আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটন ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিজেপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দ্রুত বাঁকুড়ার করিসুন্দা গ্রামে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন