খড়গপুর: এবার চলন্ত বাইকে স্কুলছাত্রকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বন্দুকবাজদের তাণ্ডব! বুধবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওল্ড সেটেলমেন্ট রেল এলাকায় এই আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীন ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাইকের পেছনে বসে থাকা অবস্থায় আচমকা এলোপাথাড়ি গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অক্ষয় ঝা। বুকে মারাত্মক বুলেটের আঘাত নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খড়গপুরের স্থানীয় হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি কলকাতার উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীর পুত্র অক্ষয় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বন্ধু সাগর কুমারের বাইকের পেছনে বসে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি নম্বরপ্লেটহীন স্কুটিতে চেপে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁদের ধাওয়া করে বাইক লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি সরাসরি অক্ষয়ের বুকের বাঁ দিকে বিঁধে যায়। চমকপ্রদ বিষয় হলো, জনবহুল এলাকায় এমন হামলা চললেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই গুলির তীব্র আওয়াজ পাননি! যা দেখে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হামলাকারীরা বন্দুকে সাউন্ড সাইলেন্সর ব্যবহার করেছিল।ঘটনাস্থলে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, এলাকায় সক্রিয় দুটো গ্যাং বা ‘গ্রুপের’ অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরেই এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে পুলিশের ৭টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।স্থানীয় কাউন্সিলর ডি বাসন্তী অবশ্য বিস্ফোরক এক তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, এই হামলার আসল নিশানা ছিল বাইকচালক সাগর কুমার। সাগর আসলে অতীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ‘শ্রীনু নাইডু’ গ্যাংয়ের সদস্য প্রসাদের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর থেকে এলাকাতেই রয়েছে সাগর। ফলে পুরনো গ্যাংওয়ার বা অপরাধচক্রের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই সাগরকে নিকেশ করার পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেই প্রাণঘাতী বুলেট এসে বিধে নির্দোষ স্কুলছাত্র অক্ষয়ের বুকে। আকস্মিক এই শ্যুটআউটের ঘটনায় পুরো খড়গপুর শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক চেপে বসেছে।[TECHTARANGA-POST:13426]