বুথে গিয়ে নিজের মৃত্যু-সংবাদ শুনে তাজ্জব কেতুগ্রামের 'মৃত' ভোটার ঝর্না!
কেতুগ্রাম: গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে বুথে গিয়েছিলেন সশরীরে। কিন্তু, সেখানে গিয়ে যা শুনলেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের বাসিন্দা ঝর্না বিশ্বাসের। নির্বাচনী আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকারি খাতা-কলমে তিনি নাকি গত হয়েছেন! বুথে গিয়ে নিজেরই মৃত্যু-সংবাদ শুনে আকাশ থেকে পড়লেন এই বৃদ্ধা।[TECHTARANGA-POST:8540]অদ্ভূত এই ঘটনাটি ঘটেছে কেতুগ্রাম বিধানসভার নৈহাটির ২৪১ নম্বর বুথে। বুধবার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ছেলে ও বউমার সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন ভগবানডাঙার বাসিন্দা ঝর্না বিশ্বাস। কিন্তু, লাইনে দাঁড়ানোর পর বিএলও অনলাইন ভোটারতালিকা পরীক্ষা করে ঝর্নাকে জানান, তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘মৃত’ লেখা রয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তিনি আর ভোট দিতে পারবেন না![TECHTARANGA-POST:8535]নিজের কানে নিজের মৃত্যু-সংবাদ শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান ঝর্না। বিএলও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঝর্নার বউমা শ্রাবণী বিশ্বাস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “শাশুড়ির সঙ্গে পায়ে হেঁটে ভোট দিতে এলাম। আর বুথে এসে শুনলাম উনি নাকি মারা গেছেন! এখন আবার ওই ‘মৃত’ শাশুড়িকে নিয়েই হেঁটে বাড়ি ফিরছি!”[TECHTARANGA-POST:8531]ভোটারতালিকায় এই মারাত্মক ভুলের জেরে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন ওই বৃদ্ধা। এখন নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণ করার জন্য কোন দুয়ারে কড়া নাড়তে হবে, সেই চিন্তায় ব্যাকুল ঝর্না বিশ্বাস ও তাঁর পরিবার। ভোটকেন্দ্র থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ঝর্না বলেন, “আমি সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তাও বলছে আমি মরে গেছি! এটা কেমন নিয়ম?”[TECHTARANGA-POST:8528]পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ত্রুটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে, জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করার এই ঘটনা ভোটারতালিকার নির্ভুলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।