Arjun Singh: গাড়ির বকেয়া করে মিলবে ৪০% ছাড়! শুভেন্দু সরকারের বিরাট পদক্ষেপে বড় স্বস্তি পাবেন বাসমালিকরা?
কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকা কর আদায়ে এবার নজিরবিহীন ছাড়ের মুখে হাঁটার ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতরের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব উদ্ধার করতে এক বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ বা মকুব প্রকল্প আনার উদ্যোগ নিচ্ছে শুভেন্দু সরকারের প্রশাসন। প্রস্তাবিত এই স্কিম চালু হলে গাড়ির বকেয়া করের ক্ষেত্রে মিলবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়! অর্থাৎ মালিকদের মেটাতে হবে বকেয়া পরিমাণের মাত্র ৬০ শতাংশ। মঙ্গলবার বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং এই স্বস্তিদায়ক খবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন।পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে রোড ট্যাক্স, পারমিট এবং লাইসেন্স ফি বাবদ রাজ্য সরকারের বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি গাড়ির কর বকেয়া পড়ে রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করতে গত মাসের শুরু থেকেই রাজ্যজুড়ে অভিযান চালায় পরিবহণ দপ্তর। কিন্তু তা সত্ত্বেও খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি; এক মাসেরও বেশি সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। আসলে বহু বাসমালিক ও গাড়ি চালক ওয়েভার স্কিমের অপেক্ষায় কর জমা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বাসমালিকদের আর্জির কথা মাথায় রেখেই তাই ৪০ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব অর্থ দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। অর্থ দফতরের সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুত কার্যকর হবে এই ছাড়।[TECHTARANGA-POST:13419]মঙ্গলবারের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পরিবহণ দফতরের কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও। ট্রাফিক জরিমানা এবং পুজোর সময় বাস ধরপাকড় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। তবে শুধুমাত্র কর মকুবের খবরই নয়, বেআইনিভাবে রুট পরিবর্তন করা চালকদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি জানান, বাস মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পুলিশের কড়া নজরদারির ফলে সাধারণ বাস চলাচলের সমস্যা অনেকটাই কমেছে বলেও জানান তিনি।বৈঠক শেষে বাসমালিকদের বিভিন্ন সংগঠনও সরকারের এই মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছে। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এবং সিটি সাবার্বান বাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানান, পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে। এই ওয়েভার স্কিম চালু হলে বাস শিল্প যে ব্যাপক আর্থিক স্বস্তি পাবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।