রাসায়নিক ঢেলে এটিএম ওড়ানোর ছক? উত্তরপাড়ার ফিল্মি কায়দায় স্তম্ভিত পুলিশও!
উত্তরপাড়া: রাসায়নিক সার দিয়ে আস্ত একটা এটিএম লুট করার চেষ্টা! হুগলির উত্তরপাড়ার জিটি রোডের ওপর ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও অদ্ভুতুড়ে ঘটনায় কার্যত চোখ কপালে উঠেছে দুঁদে পুলিশ কর্তাদেরও। অপরাধের এই নতুন ও অদ্ভুত কৌশল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত দুষ্কৃতী দমনে অভ্যস্ত থাকা প্রশাসন। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা জানতে কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।রোজকার মতোই সকালে টাকা তুলতে উত্তরপাড়ার জিটি রোডের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় গ্রাহকেরা। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ। দেখা যায়, এটিএম মেশিনটি কোনো কাজই করছে না, সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। আরও ভালো করে লক্ষ্য করতেই দেখা যায়, মেশিনের কিপ্যাডটি অদ্ভুতভাবে লক হয়ে আছে এবং তার ওপর লেপ্টে রয়েছে এক ধরনের সন্দেহজনক রাসায়নিক তরল। কোনো অঘটন ঘটেছে বুঝতে পেরে গ্রাহকেরা তৎক্ষণাৎ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। ব্যাঙ্কের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি দেখার পরই তড়িঘড়ি এটিএম কাউন্টারটি বন্ধ করে দেন এবং খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।[TECHTARANGA-POST:11033]খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তের পর রহস্যের জট খুলতে এটিএম কাউন্টারের ভেতরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর তাতেই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। ফুটেজে দেখা যায়, আগের দিন ঠিক রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক এটিএম কাউন্টারে প্রবেশ করেন। তাঁর হাতে ছিল একটি বোতল। কাউন্টারে ঢুকেই ওই যুবক বোতল থেকে রহস্যময় রাসায়নিক তরলটি এটিএম মেশিনের বিভিন্ন অংশে এবং কিপ্যাডের ওপর ঢালতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই কান্ড চালিয়েই সে চম্পট দেয়।ভিডিও ফুটেজটি খতিয়ে দেখার পর পুলিশের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ওই যুবক রাসায়নিক সার বা তরল ব্যবহার করে এটিএমের লকার গলিয়ে টাকা লুটের চেষ্টা করছিল, নাকি এর পেছনে ব্যাঙ্ক পরিষেবাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অন্য কোনো বড়সড় ষড়যন্ত্র বা অন্তর্ঘাতমূলক উদ্দেশ্য ছিল— তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া ওই যুবকের ছবি ও গতিবিধিকে সূত্র করেই বর্তমানে তার হন্যে হয়ে খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই অভিনব অপরাধের চেষ্টার পেছনে কোনো পেশাদার গ্যাং জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।