UPI Transaction: ‘ক্যাশ চাই!’ ক্ষোভে ফুটছে দেশ, উৎসবের মুখেই ব্যাকফুটে মোদী সরকার! ইউপিআই লেনদেনে অতিরিক্ত ফি আপাতত স্থগিত?
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুম শুরুর মুখেই ডিজিটাল লেনদেনে বড়সড় স্বস্তির খবর। ২ হাজার টাকার বেশি অনলাইন লেনদেনে অতিরিক্ত ফি বসানোর যে বিতর্কিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, প্রবল গণঅসন্তোষ ও বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ে আপাতত তা স্থগিত করতে চলেছে মোদী সরকার। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই নতুন চার্জ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিবাদ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসছে বলে সূত্রের খবর। এই পিছু হটার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভারতের একাধিক ডিজিটাল লেনদেনকারী প্ল্যাটফর্মের শেয়ারের দর হু হু করে পড়তে শুরু করেছে।বিদায়ী বাদল অধিবেশনে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এ সংশোধনী এনে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ওপর ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চাপানোর ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছিলেন যে, মার্কিন চাপের মুখে নতিস্বীকার করেই প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের এই এমডিআর-মুক্ত ব্যবস্থাকে খর্ব করার চেষ্টা করছেন। বিরোধীদের দাবি ছিল, এই ফি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপালে শেষ পর্যন্ত তার কোপ গিয়ে পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটেই।[TECHTARANGA-POST:13471]বাস্তবেও সেই চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছিল বাজারগুলিতে। অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী দোকান ও শোরুমে অনলাইন পেমেন্ট না নেওয়ার পোস্টার ঝোলাতে শুরু করেন। আবার কোথাও কোথাও ইউপিআই পেমেন্ট করলে বাড়তি টাকা দাবি করা হচ্ছিল, নচেৎ ক্যাশে বিল মেটানোর জন্য ক্রেতাদের বাধ্য করা হচ্ছিল। পূজার কেনাকাটার সময়ে এই ঘটনা ডিজিটাল লেনদেনের ওপর চরম ধাক্কা হানতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, দেশের প্রায় ৫ কোটি অনলাইন ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত ৭৬ শতাংশ মানুষ ফি চাপানো হলে ক্যাশ লেনদেনে ফিরে যেতেন।আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সূত্রের দাবি, উৎসব এবং আসন্ন বিয়ের মরশুমের বিপুল বিকিকিনির কথা আন্দাজ করেই মোদী সরকার আগামী বছর জানুয়ারি পর্যন্ত এই ফি কার্যকর করা স্থগিত রাখতে পারে। আপাতত আমজনতা ও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে ক্ষোভ সামাল দেওয়াই কেন্দ্রের প্রাথমিক লক্ষ্য। সম্পূর্ণ নিষ্কন্টক ডিজিটাল লেনদেনের আশ্বাস দিয়ে কেন্দ্র যদি সত্যি পদক্ষেপ নেয়, তবে এই উৎসবের সময়ে আমজনতার পকেটে স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করা হচ্ছে।