মধ্যপ্রাচ্যে ফের রণংদেহি মেজাজ: যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টাতেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান
শান্তির আশা জাগিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, আমেরিকার সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থেকে কার্যত সরে এসে ফের বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিল ইরান। বুধবার ভোরে যে স্বস্তির খবর এসেছিল, মধ্যরাত গড়াতেই তা বদলে গেল চরম অনিশ্চয়তায়। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা ও তার মিত্রপক্ষ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ফলে মাত্র এক রাতের ব্যবধানেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের জটিল আকার ধারণ করেছে।[TECHTARANGA-POST:7912]গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা রক্তক্ষয়ী সংঘাত প্রায় ৪০ দিন অতিক্রান্ত করার পর দুই দেশ দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইসরায়েলও এই সাময়িক বিরতিকে সমর্থন করেছিল এবং আশা করা হচ্ছিল যে, আগামী ১০ এপ্রিল একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বুধবার মধ্যরাতের পর থেকেই পাশা উল্টে যেতে শুরু করে।[TECHTARANGA-POST:7908]ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননের ওপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননে ১০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আট শতাধিক মানুষ। এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির অবমাননা হিসেবে গণ্য করেই ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7911]অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত কঠোর সুরে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের এই যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সুর শোনা গেছে হোয়াইট হাউসের কণ্ঠেও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবানন ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয়, তাই সেখানে অভিযান চালানো চুক্তি লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে না। তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।[TECHTARANGA-POST:7886]বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, ইরান কি লেবানন ইস্যুতে অনড় থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবে? যদি তাই হয়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা, অন্যদিকে লেবাননে ভয়াবহ রক্তপাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রভাব পড়তে পারে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে।