ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মাঝেই কি তবে সন্ধি? ঐতিহাসিক চুক্তিতে নাকি রাজি ইরান-আমেরিকা!
ওয়াশিংটন ও তেহরান: দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কি শান্ত হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য? বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেওয়া হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড়সড় খবর সামনে এল। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’-র একটি চাঞ্চল্যকর দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ সরাতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একটি বিশেষ চুক্তিতে সই করতে সম্মত হয়েছে যুযুধান দুই দেশ ইরান ও আমেরিকা।[TECHTARANGA-POST:8866]প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই ঐতিহাসিক চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। চুক্তি কার্যকর হলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীতে চলা সামরিক অবরোধ উঠে যাবে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথ দিয়ে আগের মতোই অবাধে যাতায়াত করতে পারবে আটকে থাকা কয়েকশো পণ্যবাহী ও তেলের জাহাজ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন বা তেহরান এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।[TECHTARANGA-POST:8865]প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছয়। সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরান হামলা চালালেও আমেরিকা তা রুখে দিয়েছে এবং ইরানের ছ'টি সামরিক নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডারে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল তেহরান।[TECHTARANGA-POST:8864]মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের কথায়, “আমরা যুদ্ধ চাইছি না। ওরা (ইরান) দাবি করছে যে ওরা প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু, আসলে তা নয়। আমেরিকা কেবল বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে রক্ষা করছে।” এই চরম উত্তেজনার আবহে ‘আল আরাবিয়া’-র এই চুক্তির খবর যদি সত্যি হয়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।[TECHTARANGA-POST:8861]হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে, এই জলপথ স্বাভাবিক হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আসার বড় সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। এখন দেখার, হোয়াইট হাউস বা খামেনেইয়ের দফতর থেকে এই নিয়ে কী চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।