নাবালিকা খুন ও গণপিটুনিতে রণক্ষেত্র বারুইপুর! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ থানা এলাকায় জারি ১৬৩ ধারা
বারুইপুর: নাবালিকা খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দফায় দফায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুর। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, উত্তেজনা প্রশমন করতে এবং নতুন করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে সোমবার সকাল থেকেই বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর— এই তিন থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। সকাল থেকেই থমথমে এলাকায় চলছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং কড়া টহলদারি।রণক্ষেত্র বারুইপুর! ৩ থানায় জারি ১৬৩ ধারাঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার থেকে, যখন বারুইপুরের ১২ বছরের এক কিশোরী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, কিশোরীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেই এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। কিশোরীর দেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। এরই মধ্যে কিশোরীকে খুনের সন্দেহে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, যার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার রোষের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের মারধরের পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।[TECHTARANGA-POST:10625]উত্তেজনা ছড়াতেই রবিবার রাতভর বারুইপুরের বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ প্রশাসন। এই গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে— প্রথমটি নাবালিকা খুনের, দ্বিতীয়টি গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর এবং তৃতীয়টি পুলিশকে মারধর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে। ঘটনার তদন্তে তড়িঘড়ি গঠন করা হয়েছে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট'। এখনও পর্যন্ত পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও তিনজনকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ধৃত ও আটক ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই নাবালিকা খুনের মামলার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, কিশোরীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10618]এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব। রবিবারই মৃত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মঙ্গলবার কিশোরীর বাবাকে ভবানীভবনেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:10598] এদিকে সোমবারই বারুইপুরে যাওয়ার কথা ছিল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির, কিন্তু এলাকার থমথমে পরিস্থিতি ও পুলিশের জারি করা নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত তাঁর সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামান্যতম অসতর্কতা এড়াতে বিশাল পুলিশবাহিনী গোটা এলাকার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে কোনো রকম গুজবে কান না দেওয়ার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।