West Bengal Health Department: পুজোয় কোনো ছুটি নেই! বন্ধ স্কুল-কলেজ থেকে প্যান্ডেলে চলবে সারপ্রাইজ ভিজিট, মশার লার্ভা খুঁজবে স্বাস্থ্য দফতর
কলকাতা: দুর্গাপুজোর আনন্দে যখন মাতোয়ারা থাকবে গোটা রাজ্য, তখন ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে একবিন্দু ছুটি না নিয়ে বড়সড় অভিযানে নামতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। উৎসবের দিনগুলিতে যখন রাজ্যজুড়ে স্কুল, কলেজ এবং সরকারি দফতরগুলি বন্ধ থাকে, ঠিক তখনই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সারপ্রাইজ ভিজিটে যাবে স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল। জমা জলে মশার লার্ভা জমে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শুরু হবে লার্ভা নিধন ড্রাইভ। উৎসবের মরশুমে শহরের উত্তর অংশসহ শহরতলি ও একাধিক জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হতেই এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।উৎসবের দিনগুলিতে ডেঙ্গি মোকাবিলার রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই পুরসভা স্তরে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ 'র্যাপিড রেসপন্স টিম'। এই বিশেষ টিমের সদস্যরা পুজো মণ্ডপগুলিতে নজরদারি চালাবেন। বাঁশের কাঠামো, প্যান্ডেলের ত্রিপল বা মণ্ডপ সংলগ্ন মেলার মাঠে কোথাও জমা জল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সপ্তমী ও অষ্টমীর দিনও সারপ্রাইজ ভিজিটে বেরোবেন তাঁরা। একইসঙ্গে উৎসবের ক'দিন যে সমস্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, প্রতিদিন টেলিফোনের মাধ্যমে তাঁদের স্বাস্থ্যের খবরাখবর নেবে স্বাস্থ্য দফতর। যদি কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, তবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে কড়া প্রশাসনিক নির্দেশিকা। পুজোর দিনগুলিতে জ্বর নিয়ে টেস্ট করানো রোগীদের প্রতিদিনের রিপোর্ট সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সংগ্রহ করবে স্বাস্থ্য দফতর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্তদের ভর্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ডিনায়াল অফ অ্যাডমিশন’ বা রোগী ফেরানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল যদি কোনো ডেঙ্গি রোগীকে ফিরিয়ে দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রাজ্যের সমস্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ এবং সরকারি দফতরেও পুজোর দিনগুলিতে ধারাবাহিকভাবে এই ডেঙ্গি বিরোধী অভিযান চালানো হবে। কোথাও কোনোভাবে লার্ভা মেলা মাত্রই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুজোর মুখে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আবারও জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। একদিকে প্যান্ডেল পরিক্রমা আর অন্যদিকে স্বাস্থ্য দফতরের এই অল-আউট অভিযানের মাধ্যমে উৎসবের মরশুমে রাজ্যবাসীকে মশার কামড় ও মারণ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।