শুধু ‘খিঁচ মেরি ফটো’ নয়, গাছ লাগাতেই হবে! পরিবেশ দিবসে কড়া আইন মনে করিয়ে আবাসন শিল্পকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
কলকাতা: কংক্রিটের জঙ্গলে বদলে যাওয়া শহরকে বাঁচাতে এবং সবুজের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার, ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে নলবনের এক অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আবাসন নির্মাতা ও পুরসভাগুলিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আবাসনের মোট জমির এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা বাধ্যতামূলক। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করার সময় এই আইনের কথা সবাই জানলেও বাস্তবে কেউ তা মানেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে কিছুটা কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে, না হলে স্রেফ ‘খিঁচ মেরি ফটো’ বা ছবি তোলার হিড়িক চলবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না।[TECHTARANGA-POST:9761]বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের তরফে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার অধীনে রাজ্যজুড়ে ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি, আসন্ন বর্ষা মরশুমে গোটা রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে স্কুলের সিলেবাসে এই সংক্রান্ত অধ্যায়কে আরও সবিস্তারে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল এবং তরাই-ডুয়ার্সে অবাধে গাছ কাটার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিবেশের সঙ্গে এই অন্যায়ের খেসারত আমাদেরই দিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের মতো ধর্মীয় স্থানগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমকে নতুন করে সাজানোর আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের কর্মসূচি শেষে নলবনের ভেড়িতে মাছের চারাও ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।