কেদারনাথেই সর্বাধিক মৃত্যু ও সর্বাধিক ভিড়; স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের
উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু হওয়ার পর ১৮ জুন পর্যন্ত চারধাম দর্শন করেছেন ৩৭ লক্ষেরও বেশি ভক্ত। এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমনকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:10111]তবে ভক্তসমাগমের এই রেকর্ডের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় তিন মাসে চারধাম যাত্রাকালে ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে শারীরিক অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে। বাকি তিন জনের মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মৃত্যুর নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কেদারনাথ। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ জন পুণ্যার্থী। বদ্রীনাথে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের, যমুনোত্রীতে ২৬ জনের এবং গঙ্গোত্রীতে ১৮ জনের।[TECHTARANGA-POST:10110]চিকিৎসকদের মতে, চারধামের দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ, উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং দীর্ঘ পথ হাঁটার ধকল অনেকের শরীরে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে যাত্রার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চারধাম যাত্রায় অংশগ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10109]প্রসঙ্গত, প্রতি বছর এপ্রিল বা মে মাসে চারধামের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং শীত পড়ার আগে অক্টোবর বা নভেম্বর নাগাদ তা বন্ধ করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, যাত্রা শুরু হয় যমুনোত্রী থেকে। এরপর গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং সবশেষে বদ্রীনাথ দর্শন করা হয়। এ বছর এখনও পর্যন্ত কেদারনাথেই সবচেয়ে বেশি পুণ্যার্থীর ভিড় দেখা গিয়েছে। সেখানে দর্শন করেছেন প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ মানুষ। বদ্রীনাথে গিয়েছেন প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ পুণ্যার্থী। গঙ্গোত্রীতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬.১৭ লক্ষের বেশি এবং যমুনোত্রীতে প্রায় ৬ লক্ষ। অন্যদিকে, হেমকুণ্ড সাহিবেও এক লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।