Baguiati Fire: চোখের পলকে পুড়ে ছাই আস্ত বসতি! সিলিন্ডার ফেটে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল বাগুইআটি, হাহাকার এলাকায়
কলকাতা: ভরদুপুরে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে উঠল নিউটাউনের সিটি সেন্টার ২ সংলগ্ন মাঠপাড়া এলাকার একটি জনবহুল বসতি। একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় পরপর ঝুপড়ি। সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশটি ঝুপড়ি পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গিয়েছে। যদিও সৌভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ হঠাৎই ওই বস্তি এলাকায় আগুন দেখতে পান বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণে বাঁচতে ও নিজেদের সম্বল বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে দেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে স্থানীয়রাই বালতি হাতে জল ঢেলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগুইআটি ও ইকোপার্ক থানার পুলিশ। খবর পেয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ছুটে আসে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।[TECHTARANGA-POST:13832]ভয়াবহ এই আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। দমকলকর্মীদের কাজের তদারকি করার পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন কিছু নয়, এর আগেও বহুবার এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন তাঁরা। ঘনবসতিপূর্ণ এই টিনের ঝুপড়িগুলিতে আগুন লাগার ফলে আশেপাশের বহুতল ও বাড়িগুলির নিরাপত্তাও চরম বিপদের মুখে পড়ে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের এই ক্ষোভের মুখে পড়ে বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া জানান যে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ঝুপড়ি এলাকা খালি করার নির্দেশ অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। দেড়শো থেকে দুশো মানুষ অস্থায়ীভাবে বসবাস করা এই বসতিতে আগুন লাগার আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট কিংবা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই ভয়াবহ আগুন ছড়াতে পারে। শর্ট সার্কিট নাকি রান্নার গ্যাস— ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে ফরেনসিক দল ও দমকলের তদন্তকারীরা।