‘ঘোর পাপ হয়েছে!’ দু’মাস নীরবতার পর অবশেষে নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে মারাত্মক স্বীকারোক্তি মোদীর!
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বিতর্ক ও আক্রোশের পাহাড় জমানোর দু’মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত মে মাসে পরীক্ষা হওয়ার পর থেকেই জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল দেশের ছাত্রসমাজ। বহু ভবিষ্যৎ চিকিৎসকের স্বপ্নভঙ্গ থেকে শুরু করে একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা— গোটা দেশ যখন ক্ষোভে ফুঁসছিল, লাদাখের শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেছিলেন এবং বিরোধী দলগুলি রাজপথে নেমেছিল, তখনও কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের মৌনতা ভাঙেনি। অবশেষে মঙ্গলবার এনডিএ (NDA)-র সংসদীয় দলের বৈঠকে নিজের নীরবতা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করে নিলেন যে, নিটের প্রশ্নপত্র এইভাবে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া আর কিছুই নয়, এক চরম অন্যায় ও ‘ঘোর পাপ’।[TECHTARANGA-POST:11120]এনডিএ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রশ্ন ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁর সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; ইতিমধ্যেই ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং সিবিআই তদন্ত চলছে। ঘটনাটি নিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, জড়িতদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একই সুরে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো সর্বোচ্চ কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।তবে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি মোদীকে সরাসরি নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এবং প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পরও ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না? একের পর এক কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার মাঝেও আসল অপরাধীরা কেন ছাড় পেয়ে যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী ঘটনার নিন্দা করলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা বরখাস্তের বিষয়টি নিয়ে কিন্তু কোনো সদুত্তর মেলেনি।