কলকাতা: পর পর দু’দিন! সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিনেই ফের মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটল কলকাতায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে (কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর) মাস্টারদা সূর্য সেন (বাঁশদ্রোণী) স্টেশনে এক যাত্রী আচমকাই ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এর জেরে অফিস ফেরত ভিড়ের সময়ে ভেঙে পড়ে মেট্রো পরিষেবা। একের পর এক স্টেশন চত্বরে জমতে থাকে ক্ষুব্ধ ও পরিশ্রান্ত যাত্রীদের ভিড়। সোমবারের পর মঙ্গলবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এবার পাতালপথের নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তুলে দিলেন নিত্যযাত্রীরা।[TECHTARANGA-POST:9282]মেট্রোরেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট নাগাদ মাস্টারদা সূর্য সেন স্টেশনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আপ লাইনে একটি দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেন যখন স্টেশনে ঢুকছিল, ঠিক তখনই এক ব্যক্তি আচমকা লাইনে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি চালকের নজরে আসতেই তিনি আপৎকালীন ব্রেক কষে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজ শুরু করার জন্য লাইনের থার্ড রেলের বিদ্যুৎ সংযোগ (Power Block) বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।[TECHTARANGA-POST:9280]এই আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার জেরে পুরো রুটে পরিষেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সাময়িকভাবে টালিগঞ্জ (মহানায়ক উত্তমকুমার) থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন পর্যন্ত আপ ও ডাউন — দু’দিকেরই ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, কবি সুভাষ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম এবং টালিগঞ্জ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত আংশিক রুট খোলা রেখে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।[TECHTARANGA-POST:9254]ব্যস্ত সময়ে এই বিপত্তির জেরে ট্রেনের ভিতরে ও স্টেশনে আটকে পড়েন হাজার-হাজার অফিসফেরত যাত্রী। অগত্যা পাতালপথ ছেড়ে অনেক যাত্রীই বাধ্য হয়ে সড়কপথে বাস বা অটো ধরে গন্তব্যে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেন, যার ফলে ইএম বাইপাস ও সংলগ্ন রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।উল্লেখ্য, ঠিক আগের দিন অর্থাৎ সোমবার বিকেলেও ব্লু লাইনের রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে এক যাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। আর, ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।[TECHTARANGA-POST:9243]কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে হামেশাই এই ধরনের লাইনে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে। যাত্রীদের অভিযোগ, মেট্রোর এই প্রাচীনতম রুটের স্টেশনগুলিতে লাইনের পাশে কোনওরকম সুরক্ষামূলক পাঁচিল বা স্ক্রিন ডোর (Platform Screen Doors - PSD) নেই। ফলে লাইনটি সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত অবস্থায় থাকে।[TECHTARANGA-POST:9241]যদিও কলকাতায় মেট্রোর যে সমস্ত নতুন রুট বা লাইন (যেমন গ্রিন বা পার্পল লাইন) তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে, তার সর্বত্রই কাচের পাঁচিল ও স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিন ডোর তৈরি করে লাইন সুরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু, প্রাচীনতম রুট হওয়ায় ব্লু লাইনে এখনও সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আর, এই পরিকাঠামোগত খামতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার