Hidden Stories (বাংলা)

কাঁচরাপাড়া-হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া পুরসভায় চেয়ারম্যানসহ ২৯ কাউন্সিলরের গণইস্তফা!

ভাটপাড়া: কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস চালিত পুরসভাগুলিতে গণইস্তফার ধাক্কা আরও তীব্র ও জোরাল রূপ নিল। বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানসহ একযোগে পদত্যাগ করলেন মোট ২৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। এই নজিরবিহীন গণইস্তফার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলার রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুরসভার বর্তমান রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ থেকে শুরু করে সামগ্রিক প্রশাসনিক কাজকর্ম — সবকিছু নিয়েই এক চরম অনিশ্চয়তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9355]ভাটপাড়া পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৫। তার মধ্যে দু'জন কাউন্সিলরের ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে। ফলে বর্তমান সচল ৩৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে এদিন চেয়ারম্যানসহ ২৯ জনই একসঙ্গে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ায় কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল এই পুরবোর্ড। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাটপাড়া পুরসভা মানেই একসময়ে ছিল হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিংয়ের একচেটিয়া দাপট। সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই ভাটপাড়া কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন অর্জুন-পুত্র পবন সিং। আর নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ভাটপাড়া পুরসভার অন্দরে ফাটল ও জটিলতা আরও বাড়ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুরপ্রধান বা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি, তীব্র অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তুষ্ট কাউন্সিলরদের মধ্যে আড়ালে একাধিক গোপন বৈঠক চলছিল এবং বৃহস্পতিবার সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ গণইস্তফার আকারে আছড়ে পড়ল।[TECHTARANGA-POST:9354]পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ এই গণইস্তফার কারণ স্পষ্ট করে বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “ভাটপাড়া পুরসভা এলাকার অধীনেই পড়ে ভাটপাড়া ও জগদ্দল — এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভাকেন্দ্র। এই দুই কেন্দ্রেই এবার তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হল পুরসভার নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়া। এলাকায় অনবরত বেআইনি পুকুর ভরাটের ভূরি ভূরি অভিযোগ, শীর্ষ নেতৃত্বের চরম ঔদ্ধত্য এবং অহংকার — এই সবকিছুরই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ভোটে। তার ওপর বিধানসভার ফল ঘোষণার দিন থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সেই কারণেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আমরা একযোগে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছি।”[TECHTARANGA-POST:9353]উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৫ জন এবং বুধবার হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের গণইস্তফার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ভাটপাড়ায় এই বিপুল ভাঙন ঘাসফুল শিবিরের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই ধারাবাহিক ধস বারাকপুর শিল্পাঞ্চলজুড়ে তৃণমূলের পুর প্রশাসনের ভিত নড়ে যাওয়ারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখানেই শেষ নয়, সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার গারুলিয়া পুরসভাতেও একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। এই জল্পনা ঘিরে তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্বেগ এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা অর্জুন সিং জানান, “এই ডামাডোলের জেরে সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়ে আমরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করব।”

কাঁচরাপাড়া-হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া পুরসভায় চেয়ারম্যানসহ ২৯ কাউন্সিলরের গণইস্তফা!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার