নদীতে ভাসছে হাজার হাজার এলপিজি সিলিন্ডার! যুদ্ধের বাজারে দেশজুড়ে চরম গ্যাস সংকটের বড়সড় আশঙ্কা
রায়গড়: একেই বলে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে গোটা দেশ যখন জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কাঁপছে, ঠিক তখনই ঘটল এক চরম বিপর্যয়। কোনো রকম অপচয় নয়, স্রেফ জলের তোড়ে নদীতে ভেসে গেল হাজার হাজার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার এই হাড়হিম করা ঘটনা এখন নেটদুনিয়ায় হু হু করে ভাইরাল। একদিকে বন্যা পরিস্থিতি, অন্যদিকে এই বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে আমজনতার। সিলিন্ডারগুলি উদ্ধারে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।[TECHTARANGA-POST:10701]গত কয়েকদিন ধরে নাগাড়ে হওয়া অতিবৃষ্টির জেরে কার্যত জলের তলায় মহারাষ্ট্রের একটা বড় অংশ। মুম্বই থেকে শুরু করে প্রান্তিক জেলাগুলির জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে রায়গড় জেলার পানভেল ব্লকের পাতালগঙ্গায় অবস্থিত এইচপিসিএল (HPCL)-এর একটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে হু হু করে ঢুকতে শুরু করে বন্যার জল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলস্তর এতটাই বেড়ে যায় যে, কারখানার ভেতরে মজুত রাখা সিলিন্ডারগুলি স্রেফ খড়কুটোর মতো ভাসতে শুরু করে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, অন্তত ৩ হাজার সিলিন্ডার কারখানার পাঁচিল টপকে স্রেফ নদীর স্রোতে ভেসে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রবল স্রোতের টানে একের পর এক লাল সিলিন্ডার খ্যাপা নদীর বুকে খেলনার মতো ভেসে চলেছে। এই সিলিন্ডারগুলির মধ্যে বেশ কিছুতে গ্যাস ভর্তি ছিল এবং কিছু খালি ছিল বলে জানা গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10747]এই বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার স্রেফ নদীর জলে ভেসে যাওয়ায় ঘুম উড়েছে রায়গড় জেলা প্রশাসনের। প্রথমত, জলের ধাক্কায় বা কোনো পাথরে লেগে সিলিন্ডারগুলির সেফটি ভালভ সুরক্ষিত রয়েছে কিনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই সিলিন্ডারগুলি ভাসতে ভাসতে যদি আশেপাশের কোনো লোকালয়ে পৌঁছায় এবং সাধারণ মানুষ কৌতূহলবশত সেগুলি খোলার চেষ্টা করেন, তবে যেকোনো মুহূর্তে মহাবিস্ফোরণ বা বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় তড়িঘড়ি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।তারাপীঠে পুজো দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারআন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এমনিতেই দেশে আমদানিকৃত গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেওয়ার মেঘ ঘনাচ্ছিল। এই চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে এত হাজার সিলিন্ডার নষ্ট হওয়া রীতিমতো উদ্বেগের। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও সিলিন্ডারের অপচয়ের পর সাধারণ নাগরিকদের দুয়ারে সময়মতো রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়াটাই এখন হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে না তো? উত্তর খুঁজছে প্রশাসনও।