বাংলায় শিল্পের জোয়ার! চলতি মাসেই পথ চলা শুরু লাক্স ও শ্যাম স্টিলের মেগা প্রকল্পের
কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শিল্প খরা কাটিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে মরিয়া নতুন বিজেপি সরকার। আর সেই লক্ষ্যপূরণে এবার রাজ্যজুড়ে বস্ত্র এবং ইস্পাত শিল্পে বড়সড় বিনিয়োগের জোড়া ধামাকা নিয়ে আসতে চলেছে দুই নামী কর্পোরেট সংস্থা।বিনীত গোয়েল সহ তিন আধিকারিক এখনও তদন্তের স্ক্যানারে, 'আর জি কর ফাইলস' এ নতুন মোড় এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, দেশের হোসিয়ারি শিল্পের অন্যতম প্রধান নাম ‘লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ়’ এবং দেশের প্রথম সারির ইস্পাত প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘শ্যাম স্টিল’— দুই সংস্থাই বাংলায় তাদের কারখানার ব্যাপক সম্প্রসারণ করতে চলেছে। লাল ফিতের জট কাটিয়ে এবং দক্ষ কারিগরদের কাজে লাগিয়ে রাজ্যের বুকে এক শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যে তৎপরতা, এই জোড়া মেগা প্রজেক্ট তারই প্রথম সফল ফসল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।[TECHTARANGA-POST:10668]শিল্পমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম বৃহৎ হোসিয়ারি ব্র্যান্ড লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে হুগলির ডানকুনিতে কারখানার সম্প্রসারণের কাজ শুরু করছে। আগামী ১১ জুলাই এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, ইস্পাত শিল্পের অন্যতম মহারথী শ্যাম স্টিলও তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তাদের এই কারখানার সম্প্রসারণ ঘটবে বাঁকুড়ার মেজিয়াতে, যার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে আগামী ১৮ জুলাই। শিল্পমহল সূত্রে খবর, মেজিয়ার এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য শ্যাম স্টিল বাংলায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর ডানকুনি ও মেজিয়ার এই দুটি হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানেই সশরীরে উপস্থিত থেকে শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং।[TECHTARANGA-POST:10653]গত কয়েকদিন আগেই আলিপুরে শিল্পপতিদের এক সভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী খোলাখুলি আহ্বান জানিয়েছিলেন, “বাংলায় সমস্ত সম্পদ আছে। আপনারা প্রস্তাব ও এলাকা চিহ্নিত করে আসুন, সরকার সবরকম সাহায্য করবে।” মুখ্যমন্ত্রীর সেই আহ্বানের পরপরই একই মাসে রাজ্যের দুই প্রান্তে এমন বড়সড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বর্তমান রাজ্য সরকারের জন্য এক মস্ত বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য। যদিও লাক্স কত টাকা বিনিয়োগ করছে তার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক মন্ত্রী খোলসা করেননি, তবে মেজিয়া ও ডানকুনির এই জোড়া প্রকল্পের হাত ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলে কয়েক হাজার নতুন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে চলেছে, যা নিয়ে এখন থেকেই আশার আলো দেখছেন বেকার যুবকেরা।