নড়িয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে লণ্ডভণ্ড ৪০ পরিবার! ১০ জন আহত, তাজা বোমা উদ্ধার করে পরিস্থিতি সামাল দিল পুলিশ
গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা। সোমবার সকালে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেধে যায়। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত সমর্থকদের হামলায় বিএনপির অন্তত ৪০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে এবং লুটপাট চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7528]স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন তালতলা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থক ফারুক হাওলাদারের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় জামায়াত সমর্থক রুবেল ও সোহেল কাজী বাধা দিলে তাঁদের মারধর করে বিএনপি কর্মীরা। সেই ঘটনার জেরে গত রবিবার এক বিএনপি সমর্থকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর পর সোমবার সকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।[TECHTARANGA-POST:7527]প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় জামায়াত সমর্থিত এক বিশাল গোষ্ঠী। হামলায় মফিজ ভুঁইয়া, হাফিজ ভুঁইয়া, কালাম ভুঁইয়া-সহ প্রায় ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, হামলার সময় কালাম ভুঁইয়ার খামার থেকে ৪টি গরু এবং জলিল বেপারীর বাড়ি থেকে ১৫ ভরি সোনার গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গোটা এলাকা কাঁপিয়ে শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার ফলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।[TECHTARANGA-POST:7525]নড়িয়া থানার ওসি মো. বাহার মিয়া জানিয়েছেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা ককটেল বোমা উদ্ধার হয়েছে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।