এনকাউন্টারের রাতে আসলে কী ঘটেছিল? বারুইপুর কাণ্ডে এবার এন্ট্রি সিআইডি-র, বসছে বিচারবিভাগীয় তদন্ত!
বারুইপুর: বারুইপুরের সেই হাড়হিম করা মাঝরাতের এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই এক মস্ত বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় এবার তদন্তভার তুলে দেওয়া হলো রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা অর্থাৎ সিআইডি (CID)-র হাতে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। নিয়ম অনুযায়ী, যে পুলিশ জেলার অধীনে এনকাউন্টার ঘটে, তারা নিজেরা সেই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। সেই কারণেই বারুইপুর পুলিশ জেলার হাত থেকে ফাইল নিয়ে তা দেওয়া হলো ভবানী ভবনের গোয়েন্দাদের। একই সঙ্গে এই ঘটনায় সমান্তরালভাবে চলবে উচ্চপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্তও (Judicial Inquiry)। জোড়া তদন্তের এই সাঁড়াশি চাপে এনকাউন্টারের রাতের আসল সত্য এবার সামনে আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।[TECHTARANGA-POST:10757]মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ ঠিক কী ঘটেছিল বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই অন্ধকার অকুস্থলে, তার প্রতিটি সেকেন্ডের পুনর্নির্মাণ করবেন সিআইডি আধিকারিকেরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার সময় ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কলের ইনচার্জ রনি সরকারের কোমর থেকে আচমকাই রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে প্রভাস। পুলিশ ধাওয়া করলে সে পাল্টা এক রাউন্ড গুলিও চালায়। ঠিক তখনই সহকর্মীদের ও নিজের প্রাণ বাঁচাতে পাল্টা সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি ছোঁড়েন বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। সূত্রের খবর, প্রভাসের শরীরে দুটি গুলি লেগেছিল— একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের ঠিক ওপরে। এই পুরো বয়ান এবং ফরেন্সিক তথ্যপ্রমাণ মিলিয়ে দেখাই এখন সিআইডি-র প্রধান চ্যালেঞ্জ।[TECHTARANGA-POST:10748]এদিকে রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরেই আড়াআড়ি ফাটল দেখা দিয়েছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই ঘটনাকে উত্তরপ্রদেশের অতীতের যোগীরাজ্যের এনকাউন্টার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিতে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কিন্তু এই এনকাউন্টারের ঘটনায় সরকারের কড়া ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এর পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসও এই খতমের রাজনীতি নিয়ে একাধিক আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক এই তুমুল চাপানউতরের মাঝেই সিআইডি এবং বিচারবিভাগীয় জোড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সরকার আদতে সমস্ত জল্পনায় জল ঢালতে চাইছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।