‘আর জি করের বিচার হবেই!’ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে মেয়ের নাম শুনেই বিধানসভায় হাউহাউ করে কাঁদলেন অভয়ার মা
কলকাতা: ২০২৬-এর নতুন বিজেপি সরকারের বাজেট অধিবেশনে মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। তৃণমূল কংগ্রেস জমানার সমস্ত বর্বরোচিত নারী নির্যাতন ও হিংসার ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন ভরা সভার এজলাসে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি আর জি করের বিচার হবে,” ঠিক তখনই বিধানসভার অন্দরে নিজের আসনে বসে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অভয়ার মা।[TECHTARANGA-POST:10201] হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের নারকীয় ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল দেশ। সেই বিচারের দাবি বুকে নিয়েই পরবর্তীতে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে আজ তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় উপস্থিত। খোদ রাজ্যের প্রধানের মুখে মেয়ের বিচারের এই জোরালো আশ্বাস শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বিধায়িকা-মা, যা দেখে থমকে যায় গোটা কক্ষ।[TECHTARANGA-POST:10195]এদিন নিজের প্রথম জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর আর জি কর ফাইলস নতুন করে খোলা হয়েছে এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু গর্জে উঠে বলেন, “অভয়ার বিচার দিতে ইতিমধ্যেই বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তার মতো তিন দাপুটে আইপিএস অফিসারকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। সন্দীপ ঘোষদের লাথি মেরে তাড়িয়েছি। বাকিদেরও খুব দ্রুত পরিষ্কার করব।” শুধু আর জি কর নয়, বগটুই-রামপুরহাট গণহত্যা, হাঁসখালি, কামদুনি, ধূপগুড়ি এবং কসবা ল কলেজের মতো সমস্ত পুরনো ঘটনার বিচারের জন্য এইচআরবিসি (HRBC) অফিসে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গড়া হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর যে, অভয়া কাণ্ডে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা কোনো প্রভাবশালী মন্ত্রী মোবাইল ফোনে বা মেসেজে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের কোনো নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা এবার খতিয়ে দেখবে স্পেশাল টিম।[TECHTARANGA-POST:10192]তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জানা গিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর গোপন নথি উদ্ধার করেছেন। এর পরেই মামলার অন্তিম জট খুলতে আগামী সপ্তাহে তলব করা হয়েছে কলকাতার তৎকালীন বিতর্কিত পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে। [TECHTARANGA-POST:10180]এই তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তার বয়ান ও ডিজিটাল নথি মিলিয়ে দেখলেই আর জি করের মূল চক্রীদের নাম সামনে চলে আসবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মেয়ের খুনি ও তাদের রক্ষকদের শাস্তির এই চূড়ান্ত তৎপরতা দেখেই বিধানসভার বেঞ্চে বসে কান্নায় ভেঙে পড়া অভয়ার মাকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন সহকর্মী মহিলা বিধায়কেরা। বাংলার মানুষ যে ছাব্বিশের ভোটের মাধ্যমে এই বিচারের পথকেই বেছে নিয়েছিলেন, মঙ্গলবারের বিধানসভা যেন আরও একবার সেই সত্যেই সিলমোহর দিল।