কামব্যাকের রাতে জ্বলে উঠলেন হ্যারি কেইন, কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড; নকআউটে বেলজিয়াম-যুক্তরাষ্ট্রও
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। প্রতিটি ম্যাচই এখন ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। একবার হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, আর জিতলেই শেষ ষোলোয় জায়গা। এমন চাপের ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র।পেলে-ক্লোজের রেকর্ড ধুলিসাৎ! মেসিকে কীভাবে টেক্কা দিচ্ছেন এমবাপে?দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। আফ্রিকার প্রতিনিধি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায়। গোল হজমের পর ইংল্যান্ড বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালালেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। প্রথমার্ধ শেষ হয় কঙ্গোর ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ইংল্যান্ডের কোচ আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তোলেন। তার ফলও আসে দ্রুত। অভিজ্ঞ অধিনায়ক হ্যারি কেইন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে সমতা ফেরান তিনি। গোলের পর ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় কয়েক গুণ। শেষ পর্যন্ত ৮৬তম মিনিটে আবারও গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন কেইন। তার জোড়া গোলে কঙ্গোর স্বপ্ন ভেঙে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।[TECHTARANGA-POST:10488]দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিল রোমাঞ্চের ছড়াছড়ি। ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম শুরুতেই সেনেগালের কাছে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায়। কিন্তু হাল ছাড়েনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে ইউরোপীয় দলটি। ম্যাচটি ছিল এবারের নকআউট পর্বের অন্যতম নাটকীয় লড়াই। দিনের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দর্শকদের সামনে দারুণ ফুটবল উপহার দেয়। শুরু থেকেই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে তারা। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। দাপটের সঙ্গে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে নিল যুক্তরাষ্ট্র।৯২’ মিনিটের ম্যাজিক: ইতিহাস গড়ল কানাডা! এই পর্যন্ত শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, মরক্কো, নরওয়ে, ফ্রান্স, মেক্সিকো, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং যুক্তরাষ্ট্র। বাকি দলগুলো নির্ধারিত হবে স্পেন-অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া, সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে, অস্ট্রেলিয়া-মিশর এবং কলম্বিয়া-ঘানার ম্যাচ শেষে। ইতিমধ্যেই শেষ ষোলোর কয়েকটি আকর্ষণীয় লড়াই নিশ্চিত হয়েছে। মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ব্রাজিল খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে। ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। কানাডার সামনে মরক্কো এবং বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। নকআউট পর্বের শুরু থেকেই চমক, প্রত্যাবর্তন ও নাটকীয়তার দেখা মিলছে। শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোও দারুণ লড়াই করছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই এখন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।[TECHTARANGA-POST:10465]বিশেষ করে হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ড সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অধিনায়কের নেতৃত্ব ও গোল করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছে, বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড় তিনি। এখন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ড কেমন খেলবে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পথে এখন আর কোনো সহজ ম্যাচ নেই। প্রতিটি জয়ই একটি নতুন চ্যালেঞ্জের দরজা খুলে দিচ্ছে। তাই শেষ ষোলোর প্রতিটি লড়াই হতে যাচ্ছে ফাইনালের মতোই উত্তেজনাপূর্ণ।