যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসে কোপ: বুকিংয়ের সময়সীমা বেড়ে ২৫ দিন!
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যত জটিল হচ্ছে, ততই অস্থির হয়ে উঠছে বিশ্ব বাজারের জ্বালানি পরিস্থিতি। এই যুদ্ধের আবহে ভারতের বাজারে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে আবারও বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। এবার থেকে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হল।[TECHTARANGA-POST:7159]কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, যুদ্ধের ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বুকিং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগে যাঁরা ৫৫ দিন অন্তর গ্যাস বুকিং করতেন, তাঁরাই এখন ১৫ দিনের ব্যবধানে বুকিং শুরু করেছেন। এই প্রবণতা রুখতেই বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। মূলত, বুকিংয়ের সময় বাড়িয়ে অবৈধ মজুতদারি বন্ধ করা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি, দেশের মজুত এলপিজি ভাণ্ডার যাতে হঠাৎ ফুরিয়ে না যায়, তার ভারসাম্য রক্ষা করাই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। [TECHTARANGA-POST:7158]এদিকে, সরকার জ্বালানির দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে চিত্রটা ভিন্ন। কয়েকদিন আগেই ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ৮৭৯ টাকার গ্যাস এখন সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে ৯৩৯ টাকায়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯০ টাকায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে রেস্তোরাঁর খাবারের দাম বাড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7155]তেল কোম্পানিগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল ঘরোয়া সিলিন্ডারের (Domestic Cylinder) চাহিদা মেটানো। বাড়িতে যাতে কারো হেঁশেল বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করার পর যদি অতিরিক্ত গ্যাস থাকে, তবেই তা বাণিজ্যিক কাজে দেওয়া হবে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এমনকী ফুটপাতের পাইস হোটেলগুলিরও গ্যাসের জোগানে টান পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের মেয়াদ বাড়লে আগামী দিনে গ্যাসের জোগান নিয়ে বড়সড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।