Chorbagan Tragedy: ১৩৪ টনের এয়ার কন্ডিশনারও পারল না ঠাণ্ডা করতে, ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার এই মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় এবার বিস্ফোরক ফরেনসিক রিপোর্ট সামনে এল। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক দাবি, মণ্ডপের ভেতরে থাকা বিপুল মানুষের ঢল ও চরম ভেন্টিলেশনের অভাবেই নিমেষে তৈরি হয়েছিল বিভীষিকাময় দমবন্ধ পরিস্থিতি, যা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এতগুলো তাজা প্রাণ।ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মণ্ডপে মোট ১৩৪ টনের ২৪টি এসি লাগানো ছিল। সাধারণত ফাঁকা মণ্ডপ বা সীমিত ভিড়ের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত হলেও, সপ্তমীর সন্ধ্যায় যেভাবে জনস্রোত আছড়ে পড়েছিল, তার তুলনায় এই শীতলীকরণ ও বায়ুচলাচল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে এসির ঠান্ডা বাতাসও পর্যাপ্ত অক্সিজেন জোগান দিতে পারেনি। এর ফলে মণ্ডপের ভেতরে নিদারুণ অস্বস্তি ও দমবন্ধ অবস্থা তৈরি হয়। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আতঙ্কে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন দর্শনার্থীরা। দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসার জেদেই সৃষ্টি হয় পদপিষ্ট হওয়ার মতো সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে, যা আয়োজকদের নিরাপত্তা ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার দিকেই বড়সড় আঙুল তুলছে।[TECHTARANGA-POST:13834]উল্লেখ্য, সপ্তমী সন্ধ্যার সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন এবং আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ২৫ জন। পুজোর মুখে ঘটে যাওয়া এই অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডির পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। এই হাইপ্রোফাইল কমিটিতে বিপর্যয় মোকাবিলা সচিব থেকে শুরু করে এসটিএফ এবং এনডিআরএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।ফরেনসিক রিপোর্টের এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর এখন তদন্তকারীদের মূল নজর মণ্ডপ তৈরির পরিকাঠামো এবং অনুমোদিত ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ভিড় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পেছনের কারণগুলোর দিকে। ২৪টি এসি থাকার পরেও কীভাবে এই চরম ব্যর্থতা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মর্মান্তিক ঘটনা কি নেহাতই দুর্ঘটনা, নাকি আয়োজকদের চূড়ান্ত গাফিলতির ফল— সেই উত্তরই এখন খুঁজছে গোটা রাজ্য।