স্যালাইনের মেয়াদ ফুরিয়েও কীভাবে পৌঁছল রোগীর শয্যায়? রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্য দপ্তরের
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। এই ঘটনায় হাসপাতালের পাঁচ কর্মী ও আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্যভবনের তরফে সেই নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে হাসপাতালে।[TECHTARANGA-POST:10767]জানা গিয়েছে, যাঁদের শোকজ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন সিস্টার ইনচার্জ, একজন স্টাফ নার্স, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত হাসপাতাল সুপার এবং স্টোর ইনচার্জ। কীভাবে এই গাফিলতি ঘটল এবং কার দায়িত্বে কোথায় ত্রুটি ছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার।বহরমপুরে সদর হাসপাতাল চালুর দাবিতে ফের সরব অধীর চৌধুরী অভিযোগ, মানসী দে নামে এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরদিনই স্বাস্থ্যভবনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মেদিনীপুর মেডিক্যালে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রতিনিধি দল হাসপাতালের স্যালাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থা, স্টক ম্যানেজমেন্ট, ওয়ার্ডে স্যালাইন সরবরাহের পদ্ধতি এবং নজরদারির দায়িত্বে কারা ছিলেন, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে একটি রিপোর্ট স্বাস্থ্যভবনে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পাঁচজনকে শোকজ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10787]এদিকে, রোগিণীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে এই ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এত বড় একটি সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও স্যালাইন দেওয়ার পর পাঁচ প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে দু'জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরেও হাসপাতালের পরিষেবা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন করে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন বিতর্ক সামনে আসায় ফের চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য দপ্তর।