লন্ডন-প্যারিস কি এবার ইরানের নিশানায়? ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হেনে ইউরোপের ঘুম ওড়াল তেহরান!
পশ্চিম এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইরানের সামরিক আস্ফালন এবার আছড়ে পড়ল ভারত মহাসাগরে। শনিবার ভোরে সুদূর ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে পর পর দুটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। আর এই ঘটনার পরেই কার্যত আতঙ্কে কাঁপছে ইউরোপ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি ৪০০০ কিমি দূরের দিয়েগো গার্সিয়াকে নিশানা করতে পারে, তবে লন্ডন বা প্যারিসের মতো শহরও এখন তাদের আক্রমণের নাগালের বাইরে নয়।[TECHTARANGA-POST:7486]এতদিন আমেরিকা ও ইজরায়েলের ধারণা ছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার। খোদ ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও গত মাসে এই সীমারেখার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শনিবারের ঘটনা প্রমাণ করে দিল, তলে তলে নিজেদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে ফেলেছে তেহরান। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন-ইজরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ইরান এবার তাদের তুরুপের তাসটি প্রকাশ্যে আনল।[TECHTARANGA-POST:7484]শনিবারের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং দ্বিতীয়টিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য যে দিয়েগো গার্সিয়া ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটি থেকেই আমেরিকার বহু বম্বার, পারমাণবিক ডুবোজাহাজ এবং মিসাইল নিয়ন্ত্রিত হয়।[TECHTARANGA-POST:7482]গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই এখন মসনদে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান আরও চরমপন্থী এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টা তারই প্রমাণ।[TECHTARANGA-POST:7478]এই ঘটনার পর ব্রিটেন তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি আমেরিকাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমেরিকাকে সাহায্য করে ব্রিটেন আসলে নিজেদের সাধারণ নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করছে। [TECHTARANGA-POST:7472]এখন প্রশ্ন উঠছে, ইরান যদি সত্যিই ৪,০০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে ইউরোপীয় দেশগুলি কি আর আগের মতো আমেরিকার অভিযানকে নিঃশর্ত সমর্থন জোগাতে পারবে? কারণ, যে কোনো মুহূর্তে ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়তে পারে ইউরোপের ব্যস্ত কোনো শহরে।