কলকাতা: তিলোত্তমার সেরা উৎসব দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করছেন? রাতে বাড়ি ফেরার চিন্তা এবার পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলুন! পুজোয় রাত জেগে প্রতিমা দর্শন শেষে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে শিয়ালদহ ডিভিশনে এক অভাবনীয় মেগা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল পূর্ব রেলওয়ে। পুজোর দিনগুলিতে শিয়ালদহ থেকে সারা রাত ধরে ওভারনাইট লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু রাখা হবে। রেল সূত্রের খবর, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শিয়ালদহ ডিভিশনের মূল, উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে এই লোকাল ট্রেনগুলি, যা মণ্ডপমুখী কোটি কোটি পুজো পরিক্রমাকারীর জন্য বিরাট স্বস্তির খবর।ভিড় সামলাতে গত বছরের তুলনায় এবার অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ব রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে মোট ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে, যা গতবারের ৩১টি ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর মধ্যে যাত্রী চলাচলের সুবিধার্থে মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল ইএমইউ এবং সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ১৩টি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। এমনকি পুজোর মূল পর্ব শুরুর আগেই, অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শিয়ালদহ-লালগোলা সেকশনে চারটি বিশেষ প্রি-পুজো স্পেশাল ইএমইউ ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।[TECHTARANGA-POST:13434]যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পুজোর দিনগুলিতে দুপুর ২টোর পর থেকে শহরতলির সমস্ত ইএমইউ ও মেমু ট্রেনের 'গ্যালোপিং' পরিষেবা স্থগিত রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ দুপুর দুটো বাজলেই প্রতিটি ট্রেন ছোট-বড় সবকটি স্টেশনে থামবে, যাতে প্রান্তিক এলাকার দর্শনার্থীরাও স্বাচ্ছন্দে ঠাকুর দেখে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের প্রফুল্ল দ্বার সহ নর্থ, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের পৃথক রুট নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সার্বিক নজরদারির জন্য খোলা হয়েছে একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টা সচল ‘ওয়ার রুম’ ও বিস্তৃত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক।শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদমের মতো ব্যস্ত স্টেশনে অতিরিক্ত শৌচাগার ব্লক নির্মাণের পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য রিজার্ভ লোকো ক্রু, মোবাইল মেনটেন্যান্স টিম এবং মেডিক্যাল বুথ তৈরি রাখা হচ্ছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। প্রতিটি পুজো পরিক্রমাকারীর জন্য নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল অগ্রাধিকার, যার জন্য রেলের সবকটি ফ্রন্টলাইন টিম দিনরাত প্রস্তুত থাকবে।