India Alliance: রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতির দরবারে মমতা-রাহুল! জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি, সুপ্রিম কোর্টে সিবল
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটানা তিন দিন রাজপথে প্রতিবাদের পর এবার দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারে হাজির হতে চলেছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিরোধী সাংসদরা। টানা আন্দোলনের পর শুক্রবার রাত ৮টায় বিরোধী প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাৎ করার সময় দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থাকবেন এই হেভিওয়েট বৈঠকে। মমতার পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে সহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার আগে আজ বিকেল ৫টায় সংসদের সেন্ট্রাল হলে এক যৌথ রণকৌশল বৈঠকে বসবেন বিরোধীরা। অন্তত ১০ জনের বেশি সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাইসিনা হিলসে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাতের সময়সূচি নিয়েও রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সারাদিন পার করে কেন রাত ৮টায় সময় দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী জোটের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ যাতে প্রচার মাধ্যমে পর্যাপ্ত কভারেজ না পায়, তার জন্যই হয়তো সময় পিছিয়ে রাতের দিকে দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:13499]এদিকে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিরোধী বিক্ষোভের গতি বেড়েই চলেছে। সংসদের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশন অভিযান, যন্তর মন্তরে আচমকা ধর্না এবং রাজঘাটে উপস্থিতির পর শনিবারও বড়সড় প্রতিবাদের প্রস্তুতি চলছে। অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা শনিবারের কর্মসূচিতেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন। তবে এই ধারাবাহিক আন্দোলনের জেরে বর্তমানে গোটা দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ এক দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভ স্তব্ধ করতে অন্তত ২৬ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা নামানো হয়েছে রাজধানীর রাস্তায়।পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অজুহাতে নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির ৫৭টি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশন। গণপরিবহন ব্যবস্থা এভাবে আচমকা পঙ্গু করে দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নাড়ছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা বিরোধী সাংসদ কপিল সিবল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে কেন সাধারণ মানুষকে গৃহবন্দি করা হচ্ছে এবং হোটেল বুকিং বাতিল করা হচ্ছে, তা নিয়ে সুপ্রিম বিচারালয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছেন সিবল। রাইসিনা হিলসে মমতা-রাহুলদের সফর ঘিরে এখন রাজধানীর রাজনীতির পারদ তুঙ্গে।