হাওয়াই চটি ছেড়ে এবার কি পদ্মবনে সায়নী? দিল্লির রুদ্ধদ্বার চা-চক্রে শুভেন্দুর পাশে অভিষেকের ‘সেনাপতি’, কাঁপছে ঘাসফুল শিবির
নয়াদিল্লি: লোকসভায় এবার কার্যত সুনামি! দেবের পর এবার কি তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘সেনাপতি’ সায়নী ঘোষের পালা? রাজ্য রাজনীতিকে ১০০ ভোল্টের ঝটকা দিয়ে দিল্লি দরবারে এখন তুঙ্গে জল্পনা। দেবসহ তৃণমূলের প্রায় ১২ জন সাংসদ বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করার পর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দলত্যাগের চিঠি জমা দিতেই তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। আর এই ‘বিদ্রোহী ব্লকে’ এবার নাম লেখাতে চলেছেন খোদ যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। সোমবার রাতে দিল্লির বুকে হওয়া এক হাইপ্রোফাইল চা-চক্রে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে সায়নীর উপস্থিতি ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।[TECHTARANGA-POST:9823]একদা বামমনস্ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোর সমালোচক সায়নী ঘোষ পরবর্তীতে স্বয়ং মমতার হাত ধরেই সক্রিয় রাজনীতিতে এসেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে হারলেও দলে তাঁর সাংগঠনিক পদ ও দাপট উল্কার গতিতে বাড়ে, হয়ে ওঠেন যুব তৃণমূলের সভানেত্রী। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুরের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রে দলের টিকিটে জয়ী হন। সাম্প্রতিককালে পরনে সাদা শাড়ি আর পায়ে সাধারণ হাওয়াই চটি গলিয়ে সায়নী নিজেকে কার্যত মমতার ‘রেপ্লিকা’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। অতীতে ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ পোস্টের মতো চরম বিতর্কিত অধ্যায়েও দলনেত্রী ও অভিষেক তাঁর পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু লোকসভা ভোটের পর দিল্লির সমীকরণ বদলে যেতেই সেই সায়নীই এবার ‘বেসুরো’ গেয়ে নাম লেখাচ্ছেন বিদ্রোহী শিবিরে।গ্রেফতারির আতঙ্কে কাঁপছেন অরূপ বিশ্বাস?সোমবার দিল্লির রাজনৈতিক নাটকের ক্লাইম্যাক্স তখনও বাকি ছিল। দিনের শেষে দিল্লির বুকে বীরভূমের প্রবীণ ও চারবারের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের সরকারি বাসভবনে বসে এক হেভিওয়েট বৈঠক। আর সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ স্বয়ং। শুভেন্দুর উপস্থিতিতে শতাব্দীর বাড়িতে সায়নীসহ একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদের এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বৈঠক শেষে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে বিদ্রোহী সাংসদরা দাবি করেছেন, এটি শুধুই এক সান্ধ্য আড্ডা তথা সাধারণ চা-চক্র ছিল। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই চা-চক্র আসলে লোকসভার কায়দায় এবার রাজ্যসভাতেও ‘অপারেশন লোটাস’ সফল করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির মোক্ষম চাল।[TECHTARANGA-POST:9806]সোমবার সকালে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ২০ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮। তার মধ্যে ২০ জনই একযোগে বিদ্রোaহ ঘোষণা করায় লোকসভাতেও তৃণমূলের রাশ এখন আলগা। বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি করে রাশ নিজেদের হাতে নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি ব্রিগেড। আর সেই পালে হাওয়া দিতেই এবার যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের এই সম্ভাব্য দলবদল তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।