Delhi Pollution: দশেরার পরই বিষাক্ত গ্যাসের চেম্বার দিল্লি! বাতাসে হু হু করে বাড়ছে ক্ষতিকর কণা, দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্ক!
নয়াদিল্লি: আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। শারদোৎসব ও বিজয়া দশেরার আনন্দ ফিকে হতে না হতেই ফের বিষাক্ত ধোঁয়াশার চাদরে মুড়ে গেল দেশের রাজধানী দিল্লি। বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানকে পিছনে ফেলে দশেরা-পরবর্তী সময়ে এবার দূষণের মাত্রা সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সমস্ত আইনি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের কড়া নির্দেশকে উপেক্ষা করে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে যে দেদার বাজি ফাটানো হয়েছে, তার ভয়াবহ পরিণাম এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর বাতাসের মান যেভাবে হু হু করে নামতে শুরু করেছে, তাতে ফের একবার ‘দমবন্ধ’ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দিল্লিবাসী।কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দশেরার ঠিক পরের দিনই দিল্লির সামগ্রিক বায়ুর গুণগত সূচক বা একিউআই (AQI) গিয়ে ঠেকেছে ২৪৫-এ, যা সরাসরি ‘খারাপ’ বা পুওর ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। উৎসবের ওই নির্দিষ্ট সময়টিতে মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর অতি-সূক্ষ্ম পিএম২.৫ কণার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ন্যূনতম ৮১ মাইক্রোগ্রাম থেকে লাফিয়ে সর্বোচ্চ ২১৭ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। রাতের সবচেয়ে দূষিত সময়গুলোতে এর গড় মাত্রা ছিল ভয়াবহ ১৯১.২ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকা যেমন পাঞ্জাবি বাগে এই সূক্ষ্ম দূষিত কণার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৩০০-র গণ্ডিও পার করে ফেলেছে। বৃহস্পতিবারও বায়ুর এই বিপজ্জনক মান অপরিবর্তিত থাকায় চিকিৎসকমহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:13802]বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আতশবাজিতে ব্যবহৃত কালো বারুদে মূলত পটাশিয়াম নাইট্রেট, কাঠকয়লা এবং সালফারের মতো অত্যন্ত ক্ষতিকারক উপাদান থাকে। বাজি ফাটানোর সঙ্গে সঙ্গেই এই কঠিন রাসায়নিক মিশ্রণ পুড়ে বাতাসে ভাসমান কালি, ছাই এবং লবণের অতি-সূক্ষ্ম দানায় রূপান্তরিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন রঙের রোশনাই তৈরি করতে যে সমস্ত ধাতু যেমন স্ট্রনশিয়াম, বেরিয়াম, তামা, লিথিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামের গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়, বিস্ফোরণের সময় সেগুলো বাষ্পীভূত হয়ে পরে শীতল বাতাসে মিশে গিয়ে বাতাসের বিষাক্ততা কয়েকশো গুণ বাড়িয়ে দেয়। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই মারাত্মক দূষণ কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে টানা কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলা এই বাজি উৎসবের জেরে এখন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু থেকে প্রবীণরা।