ব্রিগেডে গেরুয়া বিপ্লব! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কারা? দিলীপ-অগ্নিমিত্রাদের হাতেই বাংলার ভাগ্য?
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে, তিনি একা নন। শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে শুভেন্দুর সঙ্গেই শপথ নিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ সদস্য। যাঁদের রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দুর ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে![TECHTARANGA-POST:8867]রাজ্যপাল আর.এন. রবির উপস্থিতিতে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন:[TECHTARANGA-POST:8913]দিলীপ ঘোষ: রাজ্য বিজেপির উত্থানের অন্যতম কারিগর এবং আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মী।অগ্নিমিত্রা পাল: আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী ‘লড়াকু’ নেত্রী।[TECHTARANGA-POST:8901]অশোক কীর্তনীয়া: বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মুখ।নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম কাণ্ডারী।[TECHTARANGA-POST:8861]ক্ষুদিরাম টুডু: জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি এবং সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়ে নজর কাড়া কুড়মি নেতা।[TECHTARANGA-POST:8897]শুভেন্দুর এই প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে দু'জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিনজনকে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মতুয়া, রাজবংশী এবং আদিবাসী — তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ কেবল স্লোগান নয়। বিশেষ করে ক্ষুদিরাম টুডুর সাঁওতালি ভাষায় শপথ গ্রহণ এবং অশোক কীর্তনীয়ার অন্তর্ভুক্তি প্রান্তিক মানুষের কাছে বড় বার্তা।দলে এক সময় ‘কোণঠাসা’ হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, এদিন দিলীপ ঘোষের শপথ গ্রহণ প্রমাণ করল দল তাঁকে ভোলেনি। তিন থেকে ৭৭ এবং বর্তমানে ২০৭-এ বিজেপিকে পৌঁছে দেওয়ার ‘পুরস্কার’ পেলেন মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে। অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চল থেকে অগ্নিমিত্রা পালকে মন্ত্রিসভায় এনে মহিলাদের ক্ষমতায়নের ছবিটা স্পষ্ট করতে চেয়েছে গেরুয়া শিবির।শনিবারের এই মেগা ইভেন্টের পর আগামী সোমবার লোকভবনে (পূর্বতন রাজভবন) বাকি মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার হবে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ। তবে কার দখলে যাবে অর্থ, স্বরাষ্ট্র বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে। আগামী সোমবারের বৈঠকের পরই দফতর বণ্টনের তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে।২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপির এই নতুন যাত্রা বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।