বিকাশ ভবনের সামনে ধুন্ধুমার! বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের বাধা
কলকাতা: কয়েক দফা দাবিতে ‘বিকাশ ভবন অভিযান’ ঘিরে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেক। সমগ্ৰ শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের কয়েক হাজার CSS-VSE NSQF শিক্ষক। এদিন দুপুরে সল্টলেকের পিএনবি মোড় থেকে বিশাল মিছিলটি শুরু হয়ে বিকাশ ভবনের দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু মিছিলটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। আন্দোলনকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যার ফলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধস্তাধস্তির পর ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা রাস্তার ওপর বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।[TECHTARANGA-POST:6730]আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রধান অভিযোগ হলো, উচ্চমাধ্যমিক স্তরের আবশ্যিক ঐচ্ছিক বিষয়ের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁরা দাবি যে, বর্তমানে প্রচলিত শোষণমূলক ‘তৃতীয় পক্ষ’ বা এজেন্সি প্রথা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থ নষ্ট করে কার স্বার্থে এই এজেন্সি প্রথা জিইয়ে রাখা হয়েছে? তাঁরা সরাসরি স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) অধীনে আসার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, শিক্ষা নীতি লঙ্ঘন করে কেন এখনও তাঁদের কারিগরি দপ্তরের অধীনে রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছেন আন্দোলনকারীরা।[TECHTARANGA-POST:6726]বেতন বৈষম্য নিয়েও এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, নামমাত্র ১০০০ টাকা ভাতা নয়, বরং অন্যান্য রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ করতে হবে এবং একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো কার্যকর করতে হবে। চাকরির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা অনড়। সমগ্ৰ শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চের নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যতোক্ষণ না পর্যন্ত এজেন্সির জুলুম বন্ধ হচ্ছে এবং দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের এই গণতান্ত্রিক লড়াই জারি থাকবে। এই আন্দোলনের জেরে সল্টলেকের প্রশাসনিক এলাকায় যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়।